বাংলাদেশ সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে সরকারের পাঁচ দফা পরিকল্পনা

বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে সরকারের পাঁচ দফা পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৩ সেপ্টেম্বর: 

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কাটাতে পাঁচ দফা পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, নতুন গ্যাসের সন্ধানে জরিপ, বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ এবং এলএনজি আমদানির অবকাঠামো সম্প্রসারণ—এই পাঁচ উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংসদে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধানে ঘাটতি এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

প্রথমত, বাড়ানো হবে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন। ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচির মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে যোগ হতে পারে ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট।

দ্বিতীয়ত, নতুন গ্যাসের সন্ধানে বড় ধরনের সাইসমিক জরিপ হবে। দেশের সম্ভাবনাময় এলাকায় ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি জরিপের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, শক্তিশালী করা হবে বাপেক্সকে। গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের সক্ষমতা বাড়াতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে।

চতুর্থত, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো হবে। অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানে বিডিং শুরু হয়েছে। অনশোর অনুসন্ধানের জন্যও নতুন পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।

পঞ্চমত, বাড়ানো হবে এলএনজি আমদানির সক্ষমতা। মহেশখালীতে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এখান থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। এতে দৈনিক আরও প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এর পাশাপাশি পায়রা, মোংলা বা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে আরও এক বা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।

সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকেও নজর দিচ্ছে। রুফটপ সোলার স্থাপনে শুল্ক-কর সুবিধার পাশাপাশি আগামী ছয় মাসে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ থেকে গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ১৫ পয়সা দরে কেনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের আশা, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানির সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সংকটের চাপ কমবে। তবে পরিকল্পনাগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।