হানিমুন, ঋণ পরিশোধ ও দামি আংটি কেনায় অর্থ ব্যয়

বিয়ের খরচ জোগাতে লন্ডনে ক্যান্সার দাতব্য সংস্থার £৯২ হাজার চুরি

বিয়ের খরচ জোগাতে লন্ডনে ক্যান্সার দাতব্য সংস্থার £৯২ হাজার চুরি

লন্ডন, ২ সেপ্টেম্বর:

ক্যান্সার রোগীদের সহায়তায় কাজ করা একটি দাতব্য সংস্থা থেকে প্রায় ৯২ হাজার পাউন্ড চুরি করে নিজের বিয়ে ও হানিমুনের খরচ মেটানোর দায়ে তামীম চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে দুই বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের আদালত।

২৯ বছর বয়সী তামীম Breasচোরt Cancer Now-এর অর্থ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সেই দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে তিনি সংস্থার পাওনা অর্থ নিজের ব্যাংক হিসাবে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পরে ওই অর্থের বড় অংশ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে খরচ করেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে Royal Marsden NHS Foundation Trust-এর কাছ থেকে Breast Cancer Now-এর £91,966.72 ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। তামীম অফিসের ই-মেইল ব্যবহার করে সংস্থাটির লেটারহেডে নিজের ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাঠান। এর ফলে অর্থটি তার ব্যক্তিগত হিসাবে জমা হয়।

টাকা পাওয়ার পর শুরু হয় দ্রুত খরচ। তদন্তকারীরা দেখতে পান, তামীম ওই অর্থের অংশ দিয়ে নিজের বিয়ে ও হানিমুনের খরচ, ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, নগদ উত্তোলন, পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠানো এবং কাতারে যাওয়ার বিমানের টিকিট কেনেন।

এমনকি আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ দিয়ে প্রায় £১৪ হাজার মূল্যের একটি দামি আংটিও কেনেন তিনি। তদন্তে দেখা যায়, মাত্র দুই দিনেই তিনি চুরি করা অর্থ থেকে £49,100-এর বেশি খরচ করেছিলেন।

তদন্তকারীরা তার মোবাইল ফোনের বার্তাও পরীক্ষা করেন। সেখানে অর্থ আত্মসাতের আগে নিজের আর্থিক সংকটের কথা বলার তথ্য পাওয়া যায়।

পরে ব্যাংক সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করে তার হিসাব স্থগিত করে। ওই সময় হিসাবে থাকা £42,866.25 উদ্ধার করা সম্ভব হয়। Breast Cancer Now বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর তদন্ত শুরু হয়। ২০২৫ সালের জুনে তামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ Royal Courts of Justice-এ তামীম প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগ স্বীকার করেন। আদালত তাকে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেন।

City of London Police-এর Fraud Operations দলের তদন্তকারী কর্মকর্তা ইউসুফ মির্জা বলেন, তামীম এমন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অর্পিত আস্থার অপব্যবহার করেছেন, যার অর্থ ক্যান্সার গবেষণা ও রোগীদের সহায়তায় ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করা হয়।

Breast Cancer Now জানিয়েছে, তারা তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে এবং ঘটনার পর নিজেদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছে। সংস্থাটির মতে, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়নি।

তামীম চৌধুরীকে বাঙালি বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার জাতিগত পরিচয় নিয়ে কোনো অনুমান না করেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।