‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
ইইউর মুক্ত চলাচল নিয়ে অবস্থান বদলাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম? বিতর্ক তুঙ্গে
নিজস্ব প্রতিবেদক, ৩ নভেম্বর :
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এবং মানুষের অবাধ চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে আগের মন্তব্যের তুলনা করে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, তিনি কি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছেন?
৩ নভেম্বর আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত চলাচল ব্যবস্থা পুনরায় চালুর কোনো প্রস্তাব দেননি। ভবিষ্যতে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ জনগণই প্রধান ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
তবে এর আগে দেওয়া তাঁর বক্তব্যগুলোতে ভিন্ন ধরনের বার্তা পাওয়া যায়।
২৪ অক্টোবর: দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্নহাম ইইউর সঙ্গে মুক্ত চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে জনগণের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
২৬ অক্টোবর: দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে আসে, তিনি ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের ইইউতে পুনরায় যোগদানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিতে চান না। তবে ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, বর্তমান সংসদের মেয়াদে মুক্ত চলাচল পুনরায় চালুর কোনো প্রস্তাব সরকারের নেই।
৩ নভেম্বর: আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, মুক্ত চলাচল পুনরায় চালুর প্রস্তাব তিনি দেননি। ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে জনগণের মতামতই অগ্রাধিকার পাবে।
৩ নভেম্বর: দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনেও তাঁর আগের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে রাজনৈতিক বিভ্রান্তির বিষয়টি উঠে আসে।
লেবার পার্টির ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার, শুল্ক ইউনিয়ন এবং মুক্ত চলাচল ব্যবস্থায় পুনরায় যোগ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। বার্নহাম জানিয়েছেন, বর্তমান সংসদের মেয়াদে এই অবস্থান পরিবর্তন করা হবে না।
আগামী ২০ নভেম্বর ব্রাসেলসে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বাণিজ্য, কার্বন নিঃসরণ এবং তরুণদের চলাচল ও কাজের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বার্নহামের আগের বক্তব্যে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। আর এখন মুক্ত চলাচল পুনরায় চালুর প্রস্তাব অস্বীকার করায় তাঁর অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা দেননি। ফলে বিষয়টিকে অবস্থান পরিবর্তন হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।