ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

৭২ ঘণ্টায় বন্যার শঙ্কা, ঝুঁকিতে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েক জেলা

৭২ ঘণ্টায় বন্যার শঙ্কা, ঝুঁকিতে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েক জেলা

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৪ আগস্ট: টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নিচু এলাকা ও নদীতীরবর্তী জনপদে প্লাবনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া ধরলা নদীর পানিও কয়েকটি এলাকায় সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জেও বাড়ছে ঝুঁকি। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এসব জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। বর্তমানে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিন সিলেট ও রংপুর বিভাগ এবং সংলগ্ন উজান এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে অতি ভারী বর্ষণ। এর প্রভাবে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে এসব নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। যমুনার পানি রয়েছে স্থিতিশীল অবস্থায়। আগামী পাঁচ দিনে উভয় নদীর পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গঙ্গার পানি কিছুটা কমলেও পদ্মার পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেনী নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও গোমতী ও সেলোনিয়া নদীর পানি কমেছে। তবে আগামী কয়েক দিনে এসব নদীর পানির ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।