ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
ব্রেক্সিটের পর দেওয়া কিছু রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস নিয়ে নতুন বিতর্ক
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক নিউজ, ৩ আগস্ট:
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) ব্রেক্সিটের পর দেওয়া কিছু ইইউ নাগরিকের বসবাসের অনুমোদন (Pre-settled Status) পুনরায় পর্যালোচনা শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে অন্তত শতাধিক ব্যক্তিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, তাদের এই স্ট্যাটাস নাকি “ভুলবশত” দেওয়া হয়েছিল। ফলে বহু মানুষের ভবিষ্যৎ, চাকরি ও বসবাস নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ব্রেক্সিটের পর যেসব ইইউ নাগরিক পাঁচ বছরের কম সময় ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন, তাদের অনেককে Pre-settled Status দেওয়া হয়। পাঁচ বছর পূর্ণ হলে সাধারণত তারা Settled Status-এর জন্য আবেদন করে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার পান।
কিন্তু এখন কিছু আবেদনকারীকে জানানো হচ্ছে, শুরুতেই তাদের স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল ভুল তথ্য বা প্রয়োজনীয় প্রমাণের ঘাটতির কারণে। ফলে স্থায়ী স্ট্যাটাসে উন্নীত হওয়ার পরিবর্তে তাদের আবেদন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এমনই একজন পর্তুগিজ-বংশোদ্ভূত নারী, যিনি যুক্তরাজ্যের এনএইচএসে (NHS) কাজ করেন এবং একই সঙ্গে পিএইচডি গবেষণা করছেন। নিরাপত্তার কারণে তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, হোম অফিসের চিঠি পাওয়ার পর তার জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদি থাকার আইনি অধিকার শেষ হয়ে যায়, তাহলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি, বাসা ভাড়া রাখতে সমস্যা এবং ব্যাংক হিসাব পরিচালনাতেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তার দাবি, আবেদন করার সময় তিনি নিজের সব তথ্য সঠিকভাবে দিয়েছিলেন। তিনি জন্মসূত্রেই পর্তুগিজ নাগরিক, কারণ তার বাবা পর্তুগিজ নাগরিক। তাই তিনি মনে করেন, এখন তার স্ট্যাটাসকে “ভুল” বলা অন্যায়।
হোম অফিস জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রমাণ ছাড়াই স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কতজনকে এ ধরনের চিঠি পাঠানো হয়েছে, সে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, শুধু চলতি বছরের মার্চ মাসেই অন্তত ৯৫ জনকে এমন চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন the3million বলছে, প্রকৃত সংখ্যা কয়েকশ বা এমনকি কয়েক হাজারও হতে পারে। সংগঠনটির মতে, বহু মানুষ সরকারি অনুমোদনের ওপর ভরসা করে যুক্তরাজ্যে চাকরি, পরিবার ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলেছেন। পাঁচ বছর পর হঠাৎ তাদের জানানো হচ্ছে যে সেই অনুমোদনই ভুল ছিল—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এদিকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ব্রেক্সিট-পরবর্তী চুক্তি বাস্তবায়ন তদারককারী Independent Monitoring Authority (IMA)-ও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, হোম অফিসের এই নীতি ইউকে-ইইউ প্রত্যাহার চুক্তির (Withdrawal Agreement) সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে কি না, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে হোম অফিস জানিয়েছে, যাদের স্ট্যাটাস নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে তারা চাইলে অন্য অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে থাকার আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া তাদের Pre-settled Status-এর মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশে থাকার সুযোগ থাকবে। কেউ Settled Status-এর আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হলে আইনি আপিলের সুযোগও রয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে যেসব ইইউ নাগরিকের এখনো Pre-settled Status রয়েছে, তাদের উচিত সময়মতো নিজের নথিপত্র যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আইনগত বা অভিবাসন–সংক্রান্ত পরামর্শ নেওয়া।
তথ্যসূত্র: The Guardian (২ আগস্ট ২০২৬)