ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
স্পেনে নথিহীন অভিবাসীদের জন্য বৈধতার নতুন সুযোগ, বাংলাদেশিদের মধ্যেও বাড়ছে আশার আলো
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ৪ আগস্ট:
স্পেনে অনিয়মিতভাবে বসবাসরত প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসীকে আইনি স্বীকৃতির আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সরকার। নতুন এই উদ্যোগে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের হাজারো অভিবাসীর বৈধভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্পেন সরকার অভিবাসন আইন সংশোধন করে একটি রাজকীয় ডিক্রি জারি করেছে, যার মাধ্যমে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নথিহীন অভিবাসীরা এক বছরের জন্য বসবাস ও কাজের অনুমতির আবেদন করতে পারবেন। সরকারের মতে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এই সুযোগের আওতায় এলেও বিভিন্ন বিশ্লেষকের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে এবং অন্তত পাঁচ মাস ধরে সেখানে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না। শর্ত পূরণ করলে তারা প্রথমে এক বছরের বৈধ অনুমতি পাবেন এবং পরে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস বা কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
স্পেনে কৃষি, নির্মাণ, পর্যটন, সেবা ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর খাতে বহু বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্রের অভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা অনেক বাংলাদেশির জন্য এই সিদ্ধান্ত নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। ইতোমধ্যে অনেকেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
স্পেনের সরকার বলছে, দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিদেশি শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করা অভিবাসীদের আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে কর ব্যবস্থার আওতায় নেওয়া এবং শ্রমবাজারকে আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
তবে এত বিপুল সংখ্যক আবেদন অল্প সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সংগঠন ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে। এজন্য অতিরিক্ত জনবল ও প্রশাসনিক সহায়তারও দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারের এই সিদ্ধান্তকে মানবিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় বলে স্বাগত জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান। তবে বিরোধী দলগুলো এর সমালোচনা করে বলছে, এতে অনিয়মিত অভিবাসন আরও উৎসাহিত হতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রেক্ষাপটে স্পেনের এই উদ্যোগ একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও নীতিগত আলোচনার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।