ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
ঢাকার কলাবাগানে দ্বৈত হত্যাকাণ্ড, স্ত্রী-শাশুড়িকে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ
ঢাকা, ৩ আগস্ট: রাজধানীর কলাবাগানে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক যুবকের হাতে স্ত্রী ও শাশুড়ি নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পর এক বছর বয়সী শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে অভিযুক্ত নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ তাকে আটক করেছে এবং ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছে।
রোববার সকালে কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বহুতল ভবনের পঞ্চম তলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফারজানা বেগম (২০) ও তাঁর মা ফিরোজা বেগম (৩৮)। অভিযুক্ত শিপন (৩০) পেশায় পিকআপ ভ্যানচালক। তাঁদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে।
পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, প্রেমের সম্পর্কের পর শিপন ও ফারজানার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শিপনের মাদকাসক্তি নিয়ে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁদের বিচ্ছেদ হলেও পরে পারিবারিক সালিশের মাধ্যমে আবার একসঙ্গে সংসার শুরু করেন। এই দম্পতির এক বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
স্বজনরা জানান, সম্প্রতি আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন শিপন। পাশাপাশি একটি পিকআপ ভ্যান কিনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল।
গত শুক্রবার ফারজানা আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শরীয়তপুরে যান। সেখানে শিপনও কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে হাজির হলে দুজনের মধ্যে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই শিপন ঢাকায় ফিরে আসেন। শনিবার রাতে ফারজানা ও তাঁর মা ঢাকায় ফেরেন।
রোববার সকালে শিপন শ্বশুরবাড়িতে গেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ফারজানার মা বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে শিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী ও শাশুড়ির ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই ফারজানার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কলাবাগান থানার পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত শিপন নিজেই এক বছর বয়সী সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে থানায় উপস্থিত হন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ ও দীর্ঘদিনের দাম্পত্য বিরোধকে ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।