গুজবে কান নয়, সত্য জানুন:

যুক্তরাজ্যে সব EU Settlement বা Pre-Settled Status বাতিল হচ্ছে না

যুক্তরাজ্যে সব EU Settlement বা Pre-Settled Status বাতিল হচ্ছে না

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩ আগস্ট: 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব এবং কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গত কয়েকদিন ধরে একটি খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ গুজব ছড়াচ্ছেন যে, সেখানে নাকি বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্য সরকার সব EU Settlement Scheme (EUSS) বাতিল করে দিচ্ছে অথবা যাদের Pre-Settled Status আছে, তারা সবাই শিগগিরই সেই অধিকার হারাবেন।

এই খবর দেখে অনেক বাংলাদেশিসহ ইউরোপীয় নাগরিক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ ভাবছেন, এখনই হয়তো তাদের যুক্তরাজ্য ছেড়ে যেতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব দাবি সঠিক নয়। সরকারি নথি ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের তথ্য বলছে, EU Settlement Scheme বাতিল হচ্ছে না। বরং সরকার একদিকে যোগ্য ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে Settled Status দিচ্ছে, অন্যদিকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে Pre-Settled Status পর্যালোচনা করছে।

আসলে কী ঘটছে?

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের Home Office কিছু EU নাগরিককে চিঠি পাঠিয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, তাদের Pre-Settled Status "ভুলবশত" (granted in error) দেওয়া হয়েছিল। ফলে তাদের মামলাগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র The Guardian জানিয়েছে, অন্তত ১০০ জন এমন চিঠি পেয়েছেন। তবে এটি সব Pre-Settled Statusধারীর জন্য নয়। বরং যেসব আবেদনে যোগ্যতা বা নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোই পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

তাহলে কি সবার স্ট্যাটাস বাতিল হচ্ছে?

একেবারেই না।

যুক্তরাজ্য সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট GOV.UK স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যাদের Pre-Settled Status রয়েছে, তাদের স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া যারা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছেন, তাদের অনেককেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে Settled Status দেওয়া হচ্ছে।

অর্থাৎ সরকারের বর্তমান নীতি হলো—যোগ্য ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করা, বাতিল করা নয়।

কারা সমস্যায় পড়তে পারেন?

২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে Home Office একটি নতুন প্রক্রিয়া চালু করেছে।

এই প্রক্রিয়ায় যাদের সম্পর্কে সরকারের ধারণা হয়েছে যে তারা দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যের বাইরে ছিলেন এবং continuous residence বা ধারাবাহিক বসবাসের শর্ত আর পূরণ করছেন না, শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই Pre-Settled Status পর্যালোচনা করা হতে পারে।

তবে এখানেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কাউকে হঠাৎ করে স্ট্যাটাস বাতিল করা হচ্ছে না।

প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিঠি বা ই-মেইলে জানানো হবে। এরপর তিনি প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রয়োজনে আপিলও করতে পারবেন। অর্থাৎ এটি একটি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

গুজব কেন ছড়াচ্ছে?

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি নির্দিষ্ট মামলার খবরকে অনেকেই এমনভাবে প্রচার করছেন, যেন সব EU নাগরিকের স্ট্যাটাস বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

বাস্তবে তা নয়।

সরকার মাত্র কিছু বিশেষ মামলার যোগ্যতা যাচাই করছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই সীমিত ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

যাদের Pre-Settled Status রয়েছে, তারা কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—

  • আতঙ্কিত হবেন না।
  • আপনার UKVI অ্যাকাউন্টের ই-মেইল ও মোবাইল নম্বর হালনাগাদ রাখুন।
  • Home Office থেকে কোনো চিঠি বা ই-মেইল এলে গুরুত্বসহকারে পড়ুন।
  • পাঁচ বছরের বসবাসের শর্ত পূরণ হলে Settled Status-এর জন্য আবেদন করুন অথবা আপনার স্ট্যাটাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করুন।
  • প্রয়োজনে OISC-নিবন্ধিত ইমিগ্রেশন পরামর্শক বা সলিসিটরের সহায়তা নিন।

পাঠকদের জন্য সতর্কবার্তা

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ ও অনুসারী বাড়ানোর জন্য অনেকেই যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। বিশেষ করে অভিবাসন আইন নিয়ে গুজব মানুষের চাকরি, পরিবার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

তাই  ফেসবুক পোস্ট, ইউটিউব ভিডিও বা হোয়াটসঅ্যাপ ফরওয়ার্ড দেখে আতঙ্কিত না হয়ে সবসময় সরকারি ওয়েবসাইট (GOV.UK) অথবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের তথ্য যাচাই করুন। 

তথ্যসূত্র

  • UK Home Office (GOV.UK): Apply to the EU Settlement Scheme (settled and pre-settled status) 
  • UK Home Office: ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে Pre-Settled Status 
  • The Guardian, ২ আগস্ট ২০২৬: EU citizens in the UK get letters telling them post-Brexit residency rights were given "in error".