৭৬ হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে ৫৫০ কোটি ডলারের প্রস্তাব

ক্যানসারের অভিযোগে চাপে বিশ্বজুড়ে জনসন অ্যান্ড জনসন বেবি পাউডার !

ক্যানসারের অভিযোগে চাপে বিশ্বজুড়ে জনসন অ্যান্ড জনসন বেবি পাউডার !

ভয়েস অব পিপল স্বাস্থ্য ডেস্ক, ২৯ জুলাই:

বিশ্বজুড়ে বহু বছর ধরে ব্যবহৃত ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডারকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি। যুক্তরাষ্ট্রে ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের কারণে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের হওয়া প্রায় ৭৬ হাজার মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ৫৫০ কোটি ডলার পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে বহুজাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন (জেঅ্যান্ডজে)।

যদিও প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবুও দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটাতেই তারা এই সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে। কোম্পানির লিটিগেশনবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস বলেছেন, তাদের ট্যালকমভিত্তিক পণ্য ক্যানসারের কারণ—এমন দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার স্বার্থেই সমঝোতার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী বছর সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হবে। বাকি অর্থ ধাপে ধাপে দেওয়া হবে এবং ২০২৮ সালের আগে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তবে এই সমঝোতা কার্যকর হবে তখনই, যখন মামলাগুলোর অন্তত ৯৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরা এতে সম্মতি দেবেন।

জনসন অ্যান্ড জনসন ইতোমধ্যে তাদের বহুল ব্যবহৃত বেবি পাউডারের উপাদান পরিবর্তন করেছে। আগে যেখানে ট্যালকম ব্যবহার করা হতো, এখন অনেক বাজারে তার পরিবর্তে কর্নস্টার্চভিত্তিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ভোক্তাদের জন্য কী বার্তা?

বাংলাদেশে এখনও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ট্যালকম পাউডার শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েরই প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলাগুলোর অর্থ এই নয় যে ট্যালকম পাউডার ব্যবহারকারী সবাই ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন। বরং এটি সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবং আইনি লড়াইয়ের একটি অংশ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—

  • অপ্রয়োজনে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার না করা।
  • শিশুদের মুখ, নাক বা শ্বাসনালীর কাছে পাউডার ছিটানো থেকে বিরত থাকা।
  • পণ্যের উপাদান (Ingredients) দেখে কেনাকাটা করা এবং সম্ভব হলে কর্নস্টার্চভিত্তিক বিকল্প বেছে নেওয়া।
  • কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের পর অস্বাভাবিক শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব বা আতঙ্কে বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য ও চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতেই স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।