এআই রক্তপরীক্ষায় ১৫ বছর আগেই ধরা পড়বে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

এআই রক্তপরীক্ষায় ১৫ বছর আগেই ধরা পড়বে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

ভয়েস অব পিপল স্বাস্থ্য ডেস্ক:   হৃদ্‌রোগ কিংবা ব্রেন স্ট্রোক এখন আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়। লন্ডনসহ বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে কম বয়সীদের মধ্যেও হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক, হৃদ্‌স্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু কিংবা আচমকা স্ট্রোকের ঘটনা বাড়ছে। ব্যস্ত জীবন, মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও দীর্ঘসময় বসে কাজ করার কারণে ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এক এআই-নির্ভর রক্তপরীক্ষা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা “কার্ডিওমিকস্কোর” নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক একটি বিশেষ প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা একটি রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ১৫ বছর আগেই শনাক্ত করতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Nature Communications-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদ্‌রোগ হঠাৎ করে তৈরি হয় না। শরীরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে নানা পরিবর্তন ঘটে— ধমনিতে চর্বি জমা, রক্ত চলাচলে পরিবর্তন, প্রদাহ বৃদ্ধি কিংবা আণবিক স্তরের জৈব পরিবর্তন। প্রচলিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এসব সূক্ষ্ম সংকেত ধরা পড়ে না অনেক সময়। কিন্তু এআই প্রযুক্তি হাজারো জৈব তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সতর্ক সংকেত শনাক্ত করতে পারে।

নতুন এই প্রযুক্তিতে জেনোমিক্স, প্রোটিওমিক্স ও মেটাবোলোমিক্সসহ বহুস্তরের জৈব তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকেরা বলছেন, এটি শুধু হার্ট অ্যাটাক নয়, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিউর, অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দনসহ অন্তত ছয় ধরনের বড় হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি নির্ণয় করতে পারে।

লন্ডনের স্বাস্থ্যখাতেও ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর হৃদ্‌রোগ শনাক্ত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। Imperial College Healthcare NHS Trust এবং Imperial College London-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক বৃহৎ NHS গবেষণায় দেখা গেছে, AI-enabled stethoscope ব্যবহার করলে হৃদ্‌রোগ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। গবেষণায় ২০৫টি GP প্র্যাকটিস ও ১৫ লাখের বেশি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। NHS-এর বিভিন্ন গবেষণাতেও ব্রিটেনে বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয়দের হৃদ্‌রোগ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বর্তমানে NHS-এ এই “CardiOmicScore” পরীক্ষাটি সাধারণভাবে চালু হয়নি। তবে লন্ডনের কয়েকটি বড় হাসপাতাল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে AI-ভিত্তিক হার্ট স্ক্যান, স্মার্ট স্টেথোস্কোপ ও 3D cardiac imaging প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। King's College Hospital NHS Foundation Trust সম্প্রতি AI-assisted cardiac imaging চালু করেছে, যা ধমনির ব্লকেজ আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করছে।

চিকিৎসকদের মতে, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান এড়িয়ে চলা, হাঁটা ও ব্যায়ামের বিকল্প নেই। তবে এআই-নির্ভর আগাম শনাক্তকরণ ব্যবস্থা সফল হলে ভবিষ্যতে অসংখ্য মানুষের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।