বৃষ্টির ঘাটতি ও অসহনীয় গরমে চাপে পানি সরবরাহ, কৃষি ও জনজীবন

ইংল্যান্ডজুড়ে খরার আশঙ্কা, সামনে বছরের পঞ্চম তাপপ্রবাহ

ইংল্যান্ডজুড়ে খরার আশঙ্কা, সামনে বছরের পঞ্চম তাপপ্রবাহ

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১১ আগষ্ট :

ব্রিটেনে এবারের গ্রীষ্ম যেন থামতেই চাইছে না। একের পর এক তাপপ্রবাহের পর এবার ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় খরা ঘোষণার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই দেশটি প্রস্তুতি নিচ্ছে চলতি বছরের পঞ্চম তাপপ্রবাহের জন্য।

দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়া এবং অস্বাভাবিক গরমে শুকিয়ে যাচ্ছে মাটি, কমছে নদী-জলাধার ও ভূগর্ভস্থ পানির মজুত। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আরও এলাকায় বিধিনিষেধ জারির আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিনে আবারও তাপমাত্রা দ্রুত বাড়বে। কোথাও কোথাও পারদ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। ফলে তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিও বাড়বে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পানির ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে। কয়েক মাস ধরে বৃষ্টির ঘাটতির কারণে জলাধারগুলো স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরতে পারেনি। নতুন করে গরম শুরু হলে পানির চাহিদা আরও বাড়বে—বিশেষ করে ঘরবাড়ি, কৃষি ও শিল্প খাতে।

কৃষিতে বাড়ছে চাপ

খরার সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসছে কৃষিতে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় জমির আর্দ্রতা কমে গেছে। ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের সেচের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

আলু, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের উৎপাদন নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত গরম ও পানির সংকট একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে খাদ্যপণ্যের দামের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে।

শুধু গরম নয়, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্কতাই বড় বিপদ

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ শুধু কয়েক দিনের তাপমাত্রা নিয়ে নয়। আসল সমস্যা হলো—গরমের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিহীনতা।

সাধারণত কয়েক দিন গরমের পর বৃষ্টি পরিস্থিতিকে কিছুটা স্বাভাবিক করে দেয়। কিন্তু এবার সেই স্বস্তির বৃষ্টিই অনুপস্থিত। ফলে প্রতিটি নতুন তাপপ্রবাহ আগের শুষ্ক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং বাইরে কাজ করা ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং দিনের উষ্ণতম সময়ে শারীরিক পরিশ্রম কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ব্রিটেনের গ্রীষ্মে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। আকাশে মেঘ নেই, মাঠে পানি নেই, জলাধারে মজুত কমছে—আর আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবারও গরম।

প্রশ্ন এখন একটাই—পরবর্তী বৃষ্টি আসার আগেই ইংল্যান্ডের কতটা অংশ খরার আওতায় চলে যাবে?