ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

যুক্তরাজ্যে ‘মেগা-ডিঙ্গি’তে করে ফ্রান্স থেকে প্রবেশ করলো ২৩০ জন

যুক্তরাজ্যে ‘মেগা-ডিঙ্গি’তে করে ফ্রান্স থেকে প্রবেশ করলো ২৩০ জন

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১১ আগস্ট:

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে মানবপাচারকারীদের কৌশলে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ছোট নৌকার বদলে এবার আরও বড় ‘মেগা-ডিঙ্গি’ ব্যবহার করে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষকে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হচ্ছে।

সোমবার ভোরে এমন একটি নৌকায় করে ২৩০ জন যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। একক ডিঙ্গিতে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে এটিই এ বছরের সর্বোচ্চ সংখ্যক যাত্রী। ঘটনাটি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও মানবপাচারকারীরা কীভাবে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করছে, তার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ১৭৩ জনকে বহনকারী একটি মেগা-ডিঙ্গির ইঞ্জিনে আগুন ধরে সেটি চ্যানেলে উল্টে যাওয়ার আগ পর্যন্ত চলতি বছরে এ ধরনের অন্তত নয়টি নৌযাত্রা শনাক্ত হয়েছিল। ওই ঘটনায় নৌকায় থাকা সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ১১ জন সামান্য আহত হন এবং তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে বড় নৌকা ব্যবহারের এই প্রবণতা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন চলতি বছর চ্যানেল পাড়ি দেওয়া মানুষের মোট সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশের বেশি কমেছে। যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, জুলাই মাসে ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সংখ্যা ২০২০ সালের পর ওই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।

মানবপাচারকারীদের কৌশল বদলের পেছনে ফরাসি উপকূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে অপেক্ষাকৃত ছোট ডিঙ্গিতে ৫০ থেকে ৬০ জনের মতো যাত্রী থাকলেও এখন একই নৌযানে আরও বেশি মানুষ তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার শুরুতে অবশ্য একটি নৌকায় যাত্রীর সংখ্যা ছিল অনেক কম।

চ্যানেল পাড়ি ঠেকাতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে গত বছর চালু হওয়া ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ ব্যবস্থাও প্রত্যাশিতভাবে এই প্রবাহ বন্ধ করতে পারেনি। ওই ব্যবস্থায় ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসা কোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর বিনিময়ে অন্য একজনকে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে ১২৮ জন ও ২৩ জুলাই ১৬৫ জনকে বহনকারী দুটি মেগা-ডিঙ্গি যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। এরপর ৪ আগস্ট ১৭৩ জনকে বহনকারী একটি নৌকা দুর্ঘটনায় পড়ে।

শরণার্থী সহায়তায় কাজ করা সংগঠন কেয়ার৪ক্যালের আইনগত সহায়তা বিভাগের প্রধান হান্না মারউড বলেছেন, কঠোর নীতি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজা থেকে বিরত করছে না; বরং তাদের আরও বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিচ্ছে। তার মতে, নিরাপদ ও বৈধভাবে আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ তৈরি না হলে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা বন্ধ করা কঠিন।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, অতিরিক্ত মানুষ বোঝাই করে অযোগ্য নৌযানে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা মূলত অপরাধী চক্রগুলোর বেপরোয়া কর্মকাণ্ড। এসব চক্র মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

সরকার জানিয়েছে, ফরাসি উপকূলে নজরদারি আরও বাড়াতে দেশটির সঙ্গে ফলাফলভিত্তিক একটি চুক্তি করা হয়েছে। এর আওতায় ফরাসি সমুদ্রসৈকতে টহল ও নজরদারিতে ৪০ শতাংশ বেশি জনবল মোতায়েন করা হবে।

ফলে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সংখ্যা সামগ্রিকভাবে কমলেও একসঙ্গে বেশি মানুষ বহনকারী মেগা-ডিঙ্গির আবির্ভাব নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এতে একদিকে পাচারকারীদের কৌশল পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে একটি দুর্ঘটনায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে।