ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ধূমপায়ীদের রক্তে মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, বাড়ছে হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা

ধূমপায়ীদের রক্তে মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, বাড়ছে হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ১১ আগস্ট : ধূমপান শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে না, এর সঙ্গে শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। নতুন এক গবেষণায় ধূমপায়ীদের রক্তে তুলনামূলক বেশি মাত্রায় এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের একটি শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলেছে।

ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে গত ১৫ জুলাই প্রকাশিত গবেষণাটি ইতালিতে পরিচালিত হয়। রোমের সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্ত'আন্দ্রেয়া হাসপাতালের গবেষক পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

গবেষণায় হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি থেকে ৬১ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাঁদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগী, হৃদ্‌রোগ থাকলেও হার্ট অ্যাটাক হয়নি এমন রোগী এবং সুস্থ রক্তনালির রোগী ছিলেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ৮৪ শতাংশ রোগীর রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ছিল। হার্ট অ্যাটাক না হওয়া হৃদ্‌রোগীদের মধ্যে এই হার ৪০ শতাংশ। আর সুস্থ রক্তনালির রোগীদের ৩২ শতাংশের রক্তেও এসব কণা শনাক্ত হয়েছে।

ধূমপানের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির সম্পর্কও গবেষকদের নজরে এসেছে। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা প্রায় ছয় গুণ বেশি।

বায়ুদূষণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। নিয়মিত বেশি মাত্রার বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের রক্তে এসব কণার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। যারা একই সঙ্গে ধূমপান করেন এবং বায়ুদূষণের মধ্যে থাকেন, তাঁদের প্রত্যেকের রক্তেই উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। বিপরীতে, ধূমপান ও বায়ুদূষণের কোনো ঝুঁকির মধ্যে না থাকা ব্যক্তিদের মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়।

গবেষকদের ধারণা, ধূমপান ও দূষিত বাতাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক রক্তপ্রবাহে পৌঁছাতে পারে। তবে এসব কণা কীভাবে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং হৃদ্‌রোগের ওপর ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাকেনস্যাক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ড. ক্রেইগ বাসম্যান বলেন, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি গবেষণায় শনাক্ত হয়েছে। এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও হৃদ্‌রোগের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তবে গবেষণার প্রধান লেখক ও জ্যেষ্ঠ গবেষকরাও সতর্ক করেছেন, এই গবেষণা থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। গবেষণায় অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা মাত্র ৬১ জন হওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বাতাস, পানি ও খাবারসহ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মানুষের এসব কণার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। নতুন গবেষণাটি তাই মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ, ধূমপান, বায়ুদূষণ এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।