বুধবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং রিমান্ড আবেদনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কক্সবাজার থেকে বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে। ডিবির দাবি, তার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জাল নথি প্রস্তুত ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি গুলশান থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা, যাত্রাবাড়ীর পারভেজ হত্যা মামলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’–সংক্রান্ত মামলা এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় বিএনপি নেতা আলতাব হোসেন হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ অভিযুক্তরা খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে অবস্থান নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন এবং বালুভর্তি ট্রাক রেখে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন, যাতে তিনি নির্ধারিত রাজনৈতিক সমাবেশে যেতে না পারেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় পেপার স্প্রে ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে, যাতে খালেদা জিয়াসহ তার সফরসঙ্গীরা অসুস্থ ও আহত হন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গুলশান থানায় মামলা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারার পাশাপাশি বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী রিমান্ড শুনানি শেষে মামলার তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।