আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট, আমাকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো : এটা কি ট্রাম্পের আদরও ?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ৬ জানুয়ারি: যে হেলিকপ্টার সাধারণত হলিউড সিনেমায় নায়ক নামানোর কাজে লাগে, সেটিই এবার ব্যবহার হলো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর জন্য। হাতে হাতকড়া, মুখে অপ্রস্তুত ভাব, চোখ বেঁধে কালো চশমা পরিয়ে—নিউইয়র্কের আকাশে তখন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, এটা কি যুক্তরাষ্ট্রের আইনি প্রক্রিয়া, নাকি ট্রাম্পের বিশেষ আদর? নাকি মূল কারণ তৈল?

ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার থেকে হেলিকপ্টারে করে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আনা হয় ম্যানহাটনের কেন্দ্রীয় আদালতে। ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট পরিচয়ের চেয়ে তখন তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন একজন ‘টানাটানি করা আসামি’ হিসেবে। নামতে গিয়ে অসুবিধা হওয়ায় নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে প্রায় কাঁধে-হাতে ধরে নামান—যা দেখে অনেকেই বলছেন, এটা কি প্রোটোকল, না প্রডাকশন?

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বোন্ডি আগেই এক্সে জানিয়েছেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সেগুলো ব্যবহারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের তালিকা এতটাই ভারী যে, অনেকের মতে, হেলিকপ্টার থেকে নামানোর সময় ওজনটা কেবল হাতকড়ার ছিল না।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ম্যানহাটনের আদালতে তাদের হাজির করা হয়। এর আগে, গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। নিকোলা মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক-সন্ত্রাসবাদ মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিচারককে বলেছেন,
আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট। আমাকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে।

মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও আদালতে মাদক সম্পর্কিত অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
মাদুরোর মামলার বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে শোনানোর পর তার বক্তব্য জানতে চান। তখন মাদুরো বলেন, আমি নির্দোষ। এখানে যে অভিযোগগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটি আমি করিনি।
আদালতের বাইরে রাজনীতি বিশ্লেষকদের আলোচনা অন্যখানে—এই দৃশ্য কি কাকতালীয়, নাকি ট্রাম্প-যুগের কঠোর রাজনৈতিক বার্তার নতুন সংস্করণ?
এদিকে, মাদুরোর আইনজীবী জানিয়েছেন, বর্তমানে তার মক্কেল (মাদুরো) জামিনে মুক্তির জন্য আবেদন করছেন না; তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আবেদন করতে পারেন। মার্কিন একাধিক গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুনানি নিয়ে আদালত আগামী ১৭ মার্চ মাদুরোর পরবর্তী হাজিরার দিন ধার্য করেন। বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন এ নির্দেশ দিয়েছেন।
এক সময় যিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সাম্রাজ্যবাদী শত্রু’ বলে ভাষণ দিতেন, আজ তিনি সেই সাম্রাজ্যের আদালতের করিডরে হাতকড়া পরে হাঁটছেন। সমর্থকরা বলছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। সমালোচকরা বলছেন, আইনের শাসন। আর ট্রাম্প-পর্বের রাজনীতি চেনা মানুষদের একটাই প্রশ্ন—
এটা কি শাস্তি, নাকি ট্রাম্পের পুরোনো স্টাইলে দেওয়া বিশেষ আদর?