ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের সতর্কবার্তা
ঢাকার প্রতিনিয়ত বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা !
ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর : ঢাকার প্রায় ৭৪ শতাংশ ভবন নকশাবহির্ভূতভাবে তৈরি হয়েছে, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। সেফটি অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ঢাকায় প্রায় ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। পুরনো ভবন ভাঙা হচ্ছে না, অথচ নতুন ভবন অনুমোদন ছাড়াই তৈরি হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বসবাস করছে।
ধানমন্ডি, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, বাড্ডা এবং পুরান ঢাকার বহু ভবনে ফাটলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি মাত্র ৫.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে রাজধানীবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে; এতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রাজধানীর ৮০–৯০ শতাংশ ভবনে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা নেই। ২০১৮–২০২৩ সালের মধ্যে পরিদর্শিত ১ হাজার ১৮১টি বহুতল ভবনের মধ্যে ৩৬৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৪টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিপণিবিতান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

রাজউক প্রধান প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙা হয়নি। রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ঝুঁকি রোধে একাধিক সংস্থার দায়িত্ব রয়েছে। তদারকি অন্য সংস্থাকে দিলে ঝুঁকি কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, রাজউকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার অবস্থান অনেকটা আসামির মতো।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বর্তমানে ঢাকার বিল্ডিং কোড সময়োপযোগী নয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় বাধা। হাউজিং কোম্পানি নিয়ম না মেনে ১৫–২০ তলা ভবন বানাচ্ছে। ফাটল, নিরাপত্তাহীনতা ও অগ্নিনির্বাপণহীনতার কারণে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বাস্তবতা বলছে, হিসাব থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ নেই। অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে লাখো মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে বসবাস করছে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে নিরাপদ ঢাকার স্বপ্ন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।