ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাত: যুদ্ধ ও কূটনীতি একসঙ্গে তীব্র হচ্ছে
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৫ মার্চ:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের ক্ষেত্রটি এখন একদিকে সামরিক উত্তেজনায় ফুঁসে উঠেছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা ও ধোঁয়াশা ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা হলেও বাস্তবতা অনেক কঠিন ও জটিল।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল—পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখা, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের ওপর কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা। তবে তেহরান প্রস্তাবটিকে “একপাক্ষিক, অত্যন্ত অতিশয়বাদী ও অযৌক্তিক” বলে আখ্যা দিয়েছে। একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, প্রস্তাবটি কাগজে-কলমেও গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি “প্রতারণামূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।” সূত্রটি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছে, কিন্তু ইরান স্পষ্টভাবে জানে কোন শর্তে তারা যুদ্ধ শেষ করবে।
গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ইসরায়েল তেহরানে একাধিক অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলার দাবি করেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ১,০৯৪ জন নিহত এবং ৩,১১৯ জন আহত হয়েছেন, এর মধ্যে শিশুও রয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। কুয়েত বিমানবন্দরেও ড্রোন হামলার কারণে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ভারতের মতো দেশগুলোও এই অস্থিরতার ফলে সরাসরি প্রভাব অনুভব করছে; যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর ভারত দীর্ঘদিন পর ইরান থেকে এলপিজি আমদানি শুরু করেছে।
কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান শিয়া সংখ্যালঘু এবং ইরানের সঙ্গে ক্রস-বর্ডার বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে দুই পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে সক্ষম। এ ছাড়াও দেশটির সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব সম্পর্ক থাকায়, পাকিস্তান কোনো প্রকার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহার ছাড়া মধ্যস্থতা করতে পারে।
এ অবস্থায় যুদ্ধ ও কূটনৈতিক অঙ্গন—দুটি একসঙ্গে চলছে। সামরিক ধ্বংসযজ্ঞ বেড়েছে, কিন্তু কূটনৈতিক টেবিলে এখনও কোনো স্থিতিশীল সমাধান নেই। ইরান কিভাবে অবস্থান নেবে, সেটিই শুধু যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিরও গতিপথ নির্ধারণ করবে।