‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোটে জনগণ পেরেশানিতে পড়েছে: বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক
ঢাকা প্রতিনিধি, ৭ ফেব্রুয়ারি: গণভোটে একাধিক বিষয়ের ওপর একসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বাধ্য করায় সাধারণ মানুষকে অযথা পেরেশানি ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি জুমার খুতবায় তিনি ভোটের অধিকারকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
খতিব বলেন, গণভোটে পাঁচ থেকে আটটি ভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে, অথচ ভোটারদের প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। তার ভাষায়, “আলাদা আলাদা অপশন নাই কেন? আপনাদের সিলে কম পড়ছে, না কালিতে টান পড়ছে—কিসে কম পড়ছে? ‘হ্যাঁ’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘না’ বলতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ পেরেশানিতে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, একজন ভোটার কোনো কোনো বিষয়ের সঙ্গে একমত হতে পারেন, আবার কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আলাদা প্রশ্ন থাকলে তিনি সেভাবেই মত দিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় মানুষকে জোরপূর্বক একটি অবস্থান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা ভোটের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
খুতবায় তিনি ভোটকে একটি পবিত্র আমানত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভয়, লোভ বা প্ররোচনায় পড়ে নয়—বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে, বিবেক ও দায়িত্ববোধ থেকে ভোট দেওয়া উচিত। তিনি পরামর্শ দেন, ভোট দেওয়ার আগে বিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।
জাতীয় মসজিদের খতিব আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—দুটি বিকল্পই জনগণের অধিকার। সরকার বা কোনো দল ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহ দিলেও ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কাউকে কোনো একটি পক্ষ নিতে বাধ্য করা উচিত নয়। তিনি দলীয় প্রতীক, স্লোগান বা আবেগে প্রভাবিত না হয়ে যুক্তি, নীতি ও সততার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
মুফতি আবদুল মালেক বলেন, ইসলামের নাম ব্যবহার করলেই কোনো দল ইসলামসম্মত হয়ে যায় না। অনেক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও তাদের কর্মকাণ্ড বাস্তবে সেকুলার ধারার মতো হতে পারে। তাই ভোট দেওয়ার আগে দলগুলোর আদর্শ, ইশতেহার ও অতীত কর্মকাণ্ড যাচাই করা জরুরি।
খুতবার শেষ অংশে তিনি বলেন, ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো চাপ, ভয় বা প্রলোভনে নয়—বরং চরিত্র, তাকওয়া ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার মতে, সঠিক সিদ্ধান্তই দেশ ও জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারে।