সারে এলাকায় সংঘর্ষে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহ চারজন ছুরিকাঘাতে আহত

সারে এলাকায় সংঘর্ষে  লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহ চারজন  ছুরিকাঘাতে আহত

লন্ডন, ৭ ফেব্রুয়ারি: সারেতে এঘাম রেলস্টেশনে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন চার তরুণ, যাদের মধ্যে তিনজন লন্ডনের রয়্যাল হোলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শুক্রবার রাতের এই ভয়াবহ ঘটনায় স্থানীয়দের মনে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ঘটনাটিকে বর্ণনা করেছে “অত্যন্ত গুরুতর” হিসেবে।

শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৯টার দিকে সারের এঘাম রেলস্টেশনে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই ছুরি বেরিয়ে আসে, আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন চারজন। আহতদের মধ্যে দুইজনের বয়স মাত্র ২০, আরেকজন ২২—যার মুখে গভীর কাটার দাগ রয়েছে। ১৮ বছর বয়সী আরেক তরুণও হামলার শিকার হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে—আহতদের মধ্যে তিনজন তাদের শিক্ষার্থী।

ঘটনার পরপরই ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ, সারি পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সৌভাগ্যক্রমে কারও আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ত্রিশোর্ধ্ব এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে, তবে অন্তত আরও দুইজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, দুই দল একে অপরকে আগে থেকে চিনত না—এটি ছিল একটি “বিচ্ছিন্ন ঘটনা”, তবে এর ভয়াবহতা কম নয়। শনিবার সকাল থেকে স্টেশনজুড়ে পুলিশ কর্ডন বসানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা চলছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট ডেভিড উদোমহিয়ায়ে বলেছেন, “আমরা জানি স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। এটি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা, তবে সৌভাগ্যক্রমে কেউ প্রাণ হারায়নি। আমরা এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছি, তবে তদন্তে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

এঘাম স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় এখনও বাড়তি পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। কর্তৃপক্ষ প্রত্যক্ষদর্শীদের এগিয়ে এসে তথ্য দিতে আহ্বান জানিয়েছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর এমন হামলা শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি সমাজের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।