নতুন জেলে ক্ষয় হওয়া দাঁতের এনামেল পুনর্গঠনের আশা, গবেষণায় আশাবাদী ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা

নতুন জেলে ক্ষয় হওয়া দাঁতের এনামেল পুনর্গঠনের আশা, গবেষণায় আশাবাদী ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা

ডেস্ক রিপোর্ট ।। ভয়েস অব পিপল, ২৭ জুলাই:

দাঁতের ক্ষয় বা ক্যাভিটি ভবিষ্যতে হয়তো আর স্থায়ী সমস্যা হয়ে থাকবে না। ব্রিটেনের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এমন একটি বিশেষ জেল তৈরি করেছেন, যা ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতের এনামেল পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে। গবেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তি সফল হলে দাঁতের ক্ষয় রোধের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁতের সুরক্ষা ফিরিয়ে আনার নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ফার্মেসি এবং ডিপার্টমেন্ট অব কেমিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর একদল বিজ্ঞানী। তারা ফ্লোরাইডবিহীন একটি বিশেষ জেল তৈরি করেছেন, যা মুখের লালায় থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফেট ব্যবহার করে ক্ষয়প্রাপ্ত এনামেলের মতো নতুন খনিজ স্তর তৈরি করতে সক্ষম।

এনামেল মানবদেহের সবচেয়ে শক্ত টিস্যু হলেও একবার ক্ষয় শুরু হলে তা স্বাভাবিকভাবে আর ফিরে আসে না। অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার, অম্লীয় পানীয়, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, তামাকের ব্যবহার কিংবা বয়সের কারণে এই সুরক্ষাবলয় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়। এর ফলেই দাঁতে ক্যাভিটি, সংবেদনশীলতা এবং শেষ পর্যন্ত দাঁত হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।

গবেষকদের ভাষ্য, নতুন জেলটি শৈশবে যেভাবে স্বাভাবিকভাবে এনামেল গঠিত হয়, সেই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকেই অনুকরণ করে। এপিট্যাক্সিয়াল মিনারেলাইজেশন নামে পরিচিত এই পদ্ধতিতে জেলটি লালা থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ সংগ্রহ করে দাঁতের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন এনামেল তৈরি করতে সাহায্য করে। ফলে এটি দাঁত ও মাড়ির টিস্যুর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যুক্ত হতে পারে।

গবেষণা দলের সদস্য আবশার হাসান জানিয়েছেন, প্রযুক্তিটি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে শুধু এনামেলের ক্ষয় রোধই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতের পুনর্গঠনও সম্ভব হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে ফিলিং, ক্রাউন বা কৃত্রিম দাঁতের প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমে আসতে পারে।

তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, জেলটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলেও, মানুষের ওপর বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই এটি চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের মধ্যেই এই উদ্ভাবনী জেল বাজারে আনার আশা করছেন গবেষকেরা। সফল হলে এটি বিশ্বজুড়ে দাঁতের চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।