ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

বার্লিন প্রাইডে হামলা: গাড়ি তুলে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলায় নিহত ১, আহত ২৯

বার্লিন প্রাইডে হামলা: গাড়ি তুলে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলায় নিহত ১, আহত ২৯

ইউরোপ প্রতিনিধি, ২৭ জুলাই:

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে সমকামী অধিকারকর্মীদের অন্যতম বৃহৎ উৎসব ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (Christopher Street Day - CSD) প্রাইড উদযাপনে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। প্রায় ২০ ঘণ্টার দীর্ঘ অভিযান শেষে বার্লিনের স্পানডাউ এলাকায় তাকে শনাক্ত করে পুলিশ গুলি চালায়।

হামলায় ১জন নারী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন। শনিবার বার্লিনের টিয়ারগার্টেন এলাকায় প্রাইড উৎসব চলাকালে একটি গাড়ি জনতার ওপর তুলে দেওয়া হয়। এরপর হামলাকারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে কয়েকজনের ওপর আক্রমণ চালায় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী ২১ বছর বয়সী আবদুল বল্লাউট (Abdul Ballout)। তাকে স্পানডাউ এলাকার একটি বাগান এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়। পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার সময় তার হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হামলার আগে থেকেই নজরে ছিলেন

জার্মান তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ইসলামপন্থী চরমপন্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং অতীতে সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন—হামলাটি এককভাবে পরিকল্পিত ছিল, নাকি এর পেছনে কোনো সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করেছে।

উৎসব পরিণত হয় আতঙ্কে

বার্লিনের প্রাইড উৎসবে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। এবারের অনুষ্ঠানও ছিল রঙিন আয়োজন ও বৈচিত্র্যের উদযাপন। কিন্তু হামলার পর উৎসবের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ আতঙ্কে পরিণত হয়। মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‘স্বাধীনতা ও সহনশীলতার ওপর হামলা’

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি শুধু একটি অনুষ্ঠানে হামলা নয়, বরং দেশটির স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত।

বার্লিনের মেয়রও বলেছেন, শহরের বহুত্ববাদী চরিত্র ও মানুষের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

নতুন করে উগ্রবাদ নিয়ে উদ্বেগ

এই হামলার পর জার্মানিতে আবারও ধর্মীয় উগ্রবাদ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চরমপন্থা প্রতিরোধ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটি এর আগেও গাড়ি হামলা ও ছুরি হামলার মতো সন্ত্রাসী ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বার্লিন প্রাইডে হামলা শুধু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নয়; এটি ইউরোপে উন্মুক্ত সমাজ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষার চ্যালেঞ্জকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

বার্লিনে এখন নিহত ব্যক্তির স্মরণে শোকসভা চলছে। একই সঙ্গে চলছে হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত—কীভাবে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি এত বড় হামলা চালানোর সুযোগ পেল, তা খতিয়ে দেখছে জার্মান নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।