প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের কড়া বার্তা: প্রশিক্ষণ বা স্বেচ্ছাসেবায় না গেলে তরুণদের ভাতা বন্ধ হতে পারে

প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের কড়া বার্তা: প্রশিক্ষণ বা স্বেচ্ছাসেবায় না গেলে তরুণদের ভাতা বন্ধ হতে পারে

ভয়েস অব পিপল নিউজ, ২৭ জুলাই:

যুক্তরাজ্যে তরুণদের অসুস্থতা-সংক্রান্ত কল্যাণ ভাতা (welfare benefits) ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম। কর্মক্ষম বয়সী তরুণদের দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা কমাতে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা অসুস্থতার কারণে সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন, তাদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশকে ধীরে ধীরে কর্মজীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে কিছু ক্ষেত্রে ভাতা কমানো বা বন্ধ করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

বার্নহ্যামের মতে, তরুণদের দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রেখে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, মানসিক সহায়তা এবং কাজের সুযোগ তৈরি করে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

তিনি মনে করেন, কল্যাণ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়; বরং মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ তৈরি করে দেওয়া।

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেক দাতব্য সংস্থা ও প্রতিবন্ধী অধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলছে, অসুস্থতা বা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা মানুষদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

তাদের মতে, প্রত্যেক মানুষের সক্ষমতা এক নয়। তাই ভাতা বন্ধের পরিবর্তে ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা, চিকিৎসা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অসুস্থতা-সংক্রান্ত সুবিধা গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা ও কর্মবিমুখতার বিষয়টি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি নতুন নীতি গ্রহণ করে, তবে এর সফলতা নির্ভর করবে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের চেয়ে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর।

বার্নহ্যামের এই অবস্থান যুক্তরাজ্যের কল্যাণনীতি নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে—রাষ্ট্রের সহায়তা কি নিঃশর্ত হবে, নাকি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত হবে দায়িত্ব পালনের শর্ত? এখন সেই প্রশ্নই আলোচনার কেন্দ্রে।