ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
পৃথিবী বদলে দেওয়ার সম্ভাবনাময় ২৮ বিজ্ঞানীর একজন বাংলাদেশি তনিমা
কন্যা-জায়া-জননী ডেস্ক, ২৭ জুলাই:
বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি বড় স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী বিজ্ঞান সাময়িকী Scientific American ভবিষ্যতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে যুগান্তকারী অবদান রাখতে পারেন—এমন ২৮ জন তরুণ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান দিয়েছে তাঁকে। সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল বা অতিমহাকায় কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে তাঁর গবেষণাকে আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক কাজগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের Wayne State University-তে শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন তনিমা। তাঁর গবেষণার মূল বিষয়, মহাবিশ্বের সূচনালগ্নের পর সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল কীভাবে সৃষ্টি ও বিকশিত হয়েছে এবং গ্যালাক্সির বিবর্তনে এসব কৃষ্ণগহ্বর কী ধরনের প্রভাব ফেলে।
সম্প্রতি প্রকাশিত Scientific American-এর জুলাই-আগস্ট সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ‘The Future of Science’-এ বিশ্বের ২৮ জন সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানীর মধ্যে তনিমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাময়িকীটির মতে, তাঁদের গবেষণাই ভবিষ্যতে পৃথিবীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
তনিমার আন্তর্জাতিক সাফল্যের তালিকা এর আগেও সমৃদ্ধ হয়েছে। ২০২০ সালে মার্কিন বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী Science News তাঁকে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য ১০ তরুণ বিজ্ঞানীর একজন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি তাঁর গবেষণাপত্র The Astrophysical Journal-এর পর্যালোচনায় অন্যতম বহুল পঠিত ও সর্বাধিক ডাউনলোড হওয়া গবেষণার স্বীকৃতি পেয়েছে।
শিক্ষাজীবনেও রয়েছে উজ্জ্বল সাফল্য। তিনি যুক্তরাজ্যের University of Cambridge, যুক্তরাষ্ট্রের Haverford College ও Yale University-তে পড়াশোনা করেছেন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে খ্যাতিমান জ্যোতির্পদার্থবিদ ক্লডিয়া মেগান উরির তত্ত্বাবধানে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এছাড়া NASA এবং ইউরোপের গবেষণা প্রতিষ্ঠান CERN-এও ইন্টার্নশিপ করেছেন।
ঢাকার বাড্ডায় বেড়ে ওঠা তনিমার মহাকাশের প্রতি আগ্রহের শুরু শৈশবে। লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে আকাশভরা তারা দেখা এবং মায়ের কাছ থেকে গ্রহ-নক্ষত্রের গল্প শোনাই তাঁকে মহাকাশ গবেষণার স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে। ছোটবেলায় নভোচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও এখন সেই স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছানোর পথ হিসেবে গবেষণাকেই বেছে নিয়েছেন।
গবেষণার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানী তৈরিতেও কাজ করছেন তনিমা। তাঁর প্রথম পিএইচডি শিক্ষার্থী একজন বাংলাদেশি। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংগঠন Women in STEM (WiSTEM)-এর বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
তনিমা জানান, শিক্ষকতা ও গবেষণা—দুই ক্ষেত্রই তাঁর সমান প্রিয়। তবে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ ও জ্ঞান ভাগাভাগির সুযোগ তাঁকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করার কাজ চালিয়ে যেতে চান তিনি।