সেপ্টেম্বরে মাত্র সাত দিনেই মৃত্যু ২৪, মোট আক্রান্ত ৪৩,৯০৪

দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৩১৪

দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৩১৪

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৮ সেপ্টেম্বর:

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ হাজার ৩১৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ জনে, আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা ৪৩ হাজার ৯০৪ জনে পৌঁছেছে। তথ্যগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) সর্বশেষ হিসাবের ভিত্তিতে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, সেপ্টেম্বরের প্রথম সাত দিনেই ডেঙ্গুতে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঢাকার বাইরেও দ্রুত ছড়াচ্ছে

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন খুলনা বিভাগে—২৩৫ জন। এরপর ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ২২৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৮ জন, বরিশালে ১৫৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৩ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৯ জন ভর্তি হয়েছেন।

এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯৯, ময়মনসিংহে ৮১, রংপুরে ৩৬ এবং সিলেটে পাঁচজন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ ডেঙ্গুর চাপ এখন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতালও রোগীর চাপ সামলাচ্ছে।

হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপ

রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু রোগীর দ্রুত বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে শয্যার সংকট তৈরি হয়েছে এবং দেশের অন্যান্য এলাকাতেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল আবহাওয়া, বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি এবং পর্যাপ্ত মশা নিয়ন্ত্রণের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বাংলাদেশ এর আগেও ভয়াবহ ডেঙ্গু মৌসুম দেখেছে। ২০২৩ সালে দেশে রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৫ সালেও ১ লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ৪১৩ জন মারা যান।

শুধু ফগিং নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রাস্তায় কীটনাশক ছিটিয়ে বা ফগিং করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, ড্রেন, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি সরিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপগুলোর একটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্যভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ওপর জোর দিয়েছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা

যুক্তরাজ্যসহ বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্যও খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। দেশে থাকা বাবা-মা, সন্তান ও স্বজনদের কারও উচ্চ জ্বর হলে বিষয়টি সাধারণ জ্বর ধরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর জ্বর কমে গেলেও রোগীর শারীরিক অবস্থা নজরে রাখা জরুরি।

একই সঙ্গে বাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলা দরকার। কারণ ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতালের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে মশার প্রজনন বন্ধ করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ