বাংলাদেশ সংবাদ
বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল—স্বস্তি ফিরছে, তবে ঝুঁকি কাটেনি
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৮ সেপ্টেম্বর :
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। দীর্ঘদিনের ডলার-সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের পর এই বৃদ্ধি অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।
তবে মোট রিজার্ভের পুরো অর্থ ব্যয়যোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) BPM6 পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ মোট রিজার্ভের চেয়ে কম। সর্বশেষ হিসাবে সেই পরিমাণ প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ফলে শুধু ৩৬ বিলিয়ন ডলারের সংখ্যা দেখেই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থাকে পুরোপুরি শক্তিশালী বলা যাবে না।
রেমিট্যান্সে বড় ভূমিকা
রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তিগুলোর একটি হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ। আগস্টে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।
প্রবাসীদের পাঠানো ডলার সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ায়। এর ফলে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর চাপ কিছুটা কমে।
এ কারণেই রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য শুধু পরিবারের আয় নয়—এটি এখন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
টাকার ওপরও প্রভাব
রিজার্ভ বাড়লে সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ে। এতে স্থানীয় মুদ্রা টাকার ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। আমদানিকারকদের জন্য ডলার পাওয়া সহজ হলে জ্বালানি, কাঁচামাল ও শিল্পপণ্যের আমদানি স্বাভাবিক রাখার সুযোগও বাড়ে।
তবে এর সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছাতে সময় লাগে। বাজারে পণ্যের দাম, মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর আরও অনেক বিষয় নির্ভর করে।
অর্থনীতি কি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে?
রিজার্ভ বৃদ্ধিকে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু এটিকে অর্থনৈতিক সংকট পুরোপুরি কেটে যাওয়ার প্রমাণ বলা যাবে না।
বাংলাদেশের সামনে এখনো কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংকিং খাত, বিনিয়োগের ধীরগতি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং রপ্তানি আয় ধরে রাখা।
বিশেষজ্ঞদের কাছে তাই মূল প্রশ্ন শুধু রিজার্ভ কত হলো তা নয়; এই রিজার্ভ কতটা টেকসই এবং আগামী কয়েক বছরে ডলার আয়ের উৎসগুলো কতটা শক্তিশালী করা যায়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসীদের জন্য বার্তা
যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এই রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানো দেশের অর্থনীতির জন্য সরাসরি উপকার বয়ে আনে।
৩৬ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ তাই বাংলাদেশের জন্য একটি স্বস্তির খবর—কিন্তু অর্থনীতির স্থায়ী সুস্থতার জন্য এখন প্রয়োজন রপ্তানি বাড়ানো, বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।