ব্রিটেন সংবাদ

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নতুন তৎপরতা: ট্রাম্পের সঙ্গে বার্নহ্যামের আলোচনা

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নতুন তৎপরতা: ট্রাম্পের সঙ্গে বার্নহ্যামের আলোচনা

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৮ সেপ্টেম্বর:

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সোমবারের ফোনালাপে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন বলে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে।

আলোচনাটি এমন এক সময়ে হলো, যখন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নতুন করে গতি পেয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার সম্প্রতি মস্কো ও কিয়েভ সফর করে রুশ ও ইউক্রেনীয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তবে এখন পর্যন্ত এসব আলোচনায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন মতপার্থক্যগুলোর একটি হলো দখল করা ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ। ইউক্রেন রাশিয়ার দখল মেনে নিতে নারাজ; অন্যদিকে মস্কো নিজেদের দখল করা অঞ্চল নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

লন্ডন কেন সক্রিয়?

ব্রিটেন শুরু থেকেই ইউক্রেনকে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে সমর্থন করে আসছে। একই সঙ্গে ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোয় ব্রিটেনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ডাউনিং স্ট্রিটের ভাষ্য অনুযায়ী, বার্নহ্যাম ও ট্রাম্প ইউক্রেনের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন। দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের জন্য বড় প্রশ্ন হলো—যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করলেও ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও ইউরোপীয় মিত্রদের স্বার্থ কীভাবে নিশ্চিত করা যায়।

রাশিয়ার অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

মস্কোও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা দ্রুত বাস্তব যুদ্ধবিরতিতে রূপ নেয়, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি হলেও সেটি টেকসই করতে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, সীমান্ত ও ভূখণ্ড, নিষেধাজ্ঞা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের মতো বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা প্রয়োজন হবে।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

ইউক্রেন যুদ্ধ শুধু ইউরোপের যুদ্ধ নয়। এর প্রভাব জ্বালানি, খাদ্য, মুদ্রাস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর পড়েছে। ব্রিটেনে বসবাসরত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও যুদ্ধের প্রভাব বিভিন্ন সময়ে অনুভূত হয়েছে।

তাই লন্ডন ও ওয়াশিংটনের নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা সফল হলে ইউরোপের নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি বাজার, খাদ্যদ্রব্যের দাম এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে

তবে আপাতত এটিকে শান্তিচুক্তির পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসানে আরেক দফা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—যার সাফল্য নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত মস্কো ও কিয়েভ কতটা সমঝোতায় আসতে পারে তার ওপর।