ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ট্রাম্পের দাবি, ‘বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে’ ব্রিটেন—জ্বালানি ও অভিবাসন নিয়ে বার্নহাম সরকারকে তীব্র আক্রমণ

ট্রাম্পের দাবি, ‘বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে’ ব্রিটেন—জ্বালানি ও অভিবাসন নিয়ে বার্নহাম সরকারকে তীব্র আক্রমণ

বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ৮ সেপ্টেম্বর: যুক্তরাজ্য এখন ‘বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে’—এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি এবং ব্যাপক অভিবাসন ব্রিটেনকে গুরুতর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

৩ সেপ্টেম্বর জিবি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ব্রিটিশ জনগণ ও রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় অভিযোগ জ্বালানি খাত নিয়ে। তাঁর দাবি, ব্রিটেনে জ্বালানির দাম স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি এবং এর পেছনে উত্তর সাগরের তেল-গ্যাসের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়ার নীতি দায়ী। তিনি ব্রিটেনকে উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

জলবায়ু নীতি নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটিশ সরকারের নীতির বিপরীত। তিনি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে এবং ‘নেট জিরো’ নীতির সমালোচক।

অভিবাসন নিয়েও সাক্ষাৎকারে কঠোর সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষায়, বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ আসতে থাকলে ব্রিটেনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চরিত্র বদলে যেতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন বন্ধ না হলে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তবে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে আসার প্রবণতা নিয়ে সরকারের দাবি হলো, পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। সরকারি হিসাবে, ৩০ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে ৬১৬ জন ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছান এবং ৩৩৯ জনকে পারাপার থেকে ঠেকানো হয়।

অর্থাৎ ট্রাম্পের মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অভিবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম প্রধান বিতর্ক। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠছে—জ্বালানি নীতি, অভিবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ সামলাতে বার্নহাম সরকার কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকলেও জ্বালানি, জলবায়ু নীতি ও অভিবাসনের মতো ইস্যুতে দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।