জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণে ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্র ও নাগরিক ক্ষমতায়নের অঙ্গীকার
ঢাকা প্রতিনিধি, ৯ ফেব্রুয়ারি : বাংলাদেশ টেলিভিশনে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। তিনি প্রত্যেক নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করেন এবং বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারের মূল দিকগুলো তুলে ধরেন।
তিনি জানান, তরুণ, নারী ও বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানই বিএনপির প্রধান অগ্রাধিকার। ক্ষমতায় গেলে পর্যায়ক্রমে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিম্ন আয়ের পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান, কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালু, নারীদের জন্য বিনা বেতনে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা এবং কর্মস্থলে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থায় মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, তৃতীয় বিদেশি ভাষা যুক্ত করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগের ঘোষণা দেন তিনি। প্রশাসনে মেধাভিত্তিক নিয়োগ, দুর্নীতি দমন এবং অর্থপাচার রোধে কঠোর অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন।
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ এবং বিনিয়োগ সুরক্ষার আশ্বাস দেন তিনি। সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’
ভাষণে তিনি আরও বলেন, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির মূলমন্ত্র হবে ‘মহানবীর মহান আদর্শ—ন্যায়পরায়ণতা’। অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন।
তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের পরদিন থেকেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জনগণের দায়িত্ব নেবেন এবং তাদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব তিনি নিজে পালন করবেন।