গাজা ইস্যুতে স্টারমারের অবস্থানের সমালোচনা, দুঃখ প্রকাশ বার্নহামের

গাজা ইস্যুতে স্টারমারের অবস্থানের সমালোচনা, দুঃখ প্রকাশ বার্নহামের

লন্ডন, ১০ জুলাই: গাজা যুদ্ধ নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকারের প্রাথমিক অবস্থান যথাযথ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নেতৃত্বপ্রত্যাশী অ্যান্ডি বার্নহাম। একই সঙ্গে তিনি ওই অবস্থানের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ক্ষমতায় এলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করবেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, গাজা সংকট মোকাবিলায় লেবার পার্টি শুরুতে "সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি"। তার মতে, যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতেও সরকার দেরি করেছে।

মেকারফিল্ডের এই এমপি বলেন, গাজার মানুষের দুর্ভোগ এখন বিশ্বের বিবেকের ওপর এক গভীর ক্ষত। তাই শুধু বক্তব্য নয়, ইসরায়েলের ওপর আরও কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা জরুরি।

বার্নহাম জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে গাজায় সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও বিবেচনা করবেন।

তিনি পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং নতুন নতুন অবৈধ বসতি সম্প্রসারণেরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার কার্যত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা দুর্বল করে দিচ্ছে।

বার্নহামের এই অবস্থান এমন সময় এলো, যখন তিনি লেবার পার্টির নতুন নেতা হওয়ার দৌড়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। দলীয় এমপিদের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন পাওয়ার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি বামপন্থী ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। গাজা ইস্যুতে স্টারমারের অবস্থানে অসন্তুষ্ট হয়ে অনেক সমর্থক এর আগে গ্রিন পার্টি ও জেরেমি করবিনের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকেছিলেন।

তবে বার্নহামের বক্তব্যে সবাই সন্তুষ্ট নন। গ্রিন পার্টি ও জেরেমি করবিনের রাজনৈতিক শিবিরের নেতারা বলেছেন, তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান নেননি। বিশেষ করে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি যুদ্ধাপরাধ বলতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা তার সমালোচনা করেছেন।

এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরও অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার যুক্তরাজ্যে প্রবেশ সীমিত করার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে কাজ করছে। তবে একই সঙ্গে বৈধ ইসরায়েলি বাণিজ্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।