বাংলাদেশে মদ-জুয়া নিষিদ্ধের বিল, আসার আগেই বিদায়
ঢাকা, ১০ জুলাই: দেশে মদ্যপান, মদ্যজাতীয় পানীয় ও জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে সংসদে উত্থাপিত দুটি বেসরকারি বিল শেষ পর্যন্ত আর আলোচনায় এগোয়নি। সরকারের আপত্তির পর বিল দুটি উত্থাপনের পরপরই প্রত্যাহার করে নেন প্রস্তাবকারী সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ এবং ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামে দুটি বেসরকারি বিল উত্থাপন করেন।

তবে বিল উপস্থাপনের পরই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বিলের মূল উদ্দেশ্য ইতোমধ্যেই দেশের বিদ্যমান আইনে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি জানান, চলতি অধিবেশনেই ‘জুয়া আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এ মদ ও মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। ফলে একই বিষয়ে নতুন আইন করার প্রয়োজনীয়তা নেই।
এ অবস্থায় আইনমন্ত্রী বিল দুটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের পর প্রস্তাবকারী সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিল প্রত্যাহারে সম্মতি দেন।
পরে অধিবেশন পরিচালনাকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, যেহেতু প্রস্তাবকারী সদস্য নিজেই বিল উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাই এ বিষয়ে আর ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হবে না।
প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছিল, মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে রক্ষা, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য ও নৈতিক মূল্যবোধ সুরক্ষার স্বার্থে দেশে এসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ অংশে আরও উল্লেখ করা হয়, মদ ও জুয়ার আসক্তি তরুণদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, নৈতিকতা ও কর্মক্ষমতা নষ্ট করে এবং তাদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, পারিবারিক সম্পর্ক দুর্বল করে এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিক উন্নয়নের যে নির্দেশনা রয়েছে, সেই আলোকে এ আইন প্রস্তাব করা হয়েছিল।
সংসদের কার্যপ্রণালি অনুযায়ী, মন্ত্রী নন—এমন যেকোনো সংসদ সদস্য জনস্বার্থে বেসরকারি বিল উত্থাপন করতে পারেন। তবে সরকারের আপত্তি ও বিদ্যমান আইনের যুক্তি তুলে ধরায় এ দুটি বিল আর সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়নি।