“ব্রেক্সিট ব্রিটেনকে ধনী করেনি, বরং গরিব করেছে”: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১১ মে :
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এমন এক সময় দাঁড়িয়ে স্বীকার করলেন—“ব্রেক্সিট ব্রিটেনকে ধনী করেনি, বরং গরিব করেছে”, যখন তার নিজের নেতৃত্বই বড় সংকটের মুখে। স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবি, দলের ভেতরে বিদ্রোহের গুঞ্জন এবং ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানের মধ্যে দেওয়া এই ভাষণকে অনেকেই স্টারমারের “রাজনৈতিক টিকে থাকার লড়াই” হিসেবে দেখছেন।
সোমবারের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে স্টারমার বলেন, ব্রিটেন এখন “অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রতিপক্ষের” মুখোমুখি। তিনি সতর্ক করেন, লেবার দুর্বল হলে দেশ ডানপন্থী উগ্র রাজনীতির দিকে চলে যেতে পারে। সরাসরি আক্রমণ করেন Nigel Farage এবং তার দল Reform UK–কে।
স্টারমার বলেন, ব্রেক্সিট নিয়ে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার অনেক কিছুই মেলেনি। তার ভাষায়, “বলা হয়েছিল ব্রিটেন ধনী হবে—হয়নি। বলা হয়েছিল অভিবাসন কমবে—বরং বেড়েছে। বলা হয়েছিল দেশ আরও নিরাপদ হবে—কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।”
তার এই বক্তব্য ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ একসময় ব্রেক্সিটকে “অর্থনৈতিক মুক্তি” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যবসায়িক জটিলতা, ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বাধা এবং শ্রমিক সংকট সাধারণ মানুষের জীবনে বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্টারমার স্বীকার করেন, ক্ষমতায় এসে লেবার সরকার দেশের সংকটের কথা বেশি বলেছে, কিন্তু মানুষের জীবনে পরিবর্তনের আশা যথেষ্ট দেখাতে পারেনি। তিনি বলেন, “মানুষ শুধু সমস্যা শুনতে চায় না, তারা আশা দেখতে চায়।”
এই সংকট কাটাতে তিনি তিনটি বড় ঘোষণা দেন—
- ব্রিটিশ স্টিল জাতীয়করণে দ্রুত আইন আনা হবে
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন ও বিস্তৃত সম্পর্ক গড়া হবে
- তরুণদের জন্য চাকরি, প্রশিক্ষণ বা শিক্ষানবিশের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে
বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন চুক্তি। স্টারমার বলেছেন, তিনি এমন একটি “ইয়ুথ মোবিলিটি স্কিম” চান, যাতে ব্রিটিশ তরুণরা আবার ইউরোপে কাজ, পড়াশোনা ও বসবাসের সুযোগ পায়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ব্রেক্সিট-পরবর্তী কঠোর বাস্তবতার এক বড় রাজনৈতিক স্বীকারোক্তি।
এদিকে লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন Wes Streeting এবং Andy Burnham। যদিও স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন।
স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের ভয়াবহ ফল এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। ইংল্যান্ডজুড়ে দলটি ১,৫০০–এর বেশি কাউন্সিলর হারিয়েছে। ওয়েলসে তৃতীয় স্থানে নেমে যাওয়া, স্কটল্যান্ডে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া এবং বহু নিরাপদ আসন হারানো লেবারের ভেতরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
স্টারমারের ভাষণে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—লেবার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ইউরোপমুখী অবস্থানে যেতে চায়। তিনি বলেন, “আগের সরকার ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার রাজনীতি করেছে। আমরা সেই সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চাই।”
ব্রিটিশ রাজনীতিতে এখন বড় প্রশ্ন—ব্রেক্সিটের স্বপ্নভঙ্গের দায় কে নেবে? আর জনগণ কি আবার ইউরোপের কাছাকাছি যাওয়ার রাজনীতিকে গ্রহণ করবে?
কারণ বাস্তবতা হলো, “টেক ব্যাক কন্ট্রোল” স্লোগানের পর বহু মানুষ এখন হিসাব কষছে—নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও জীবন কি সত্যিই সহজ হয়েছে?