ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ঢাকার ৫০ মোড়ে বসছে এআই ট্রাফিক সিগন্যাল, ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা

ঢাকার ৫০ মোড়ে বসছে এআই ট্রাফিক সিগন্যাল, ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১২ আগস্ট:  রাজধানীর যানজট কমানো ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্বয়ংক্রিয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি সিগন্যাল ব্যবস্থায় গড়ে প্রায় ২ কোটি টাকা করে ব্যয় হবে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন ২৮টি স্থানে সিগন্যাল স্থাপনে ব্যয় হবে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২২টি স্থানে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা।

তবে এই বিপুল অর্থ শুধু ট্রাফিক বাতি কেনা ও বসানোর জন্য নয়। সিগন্যালের খুঁটি ও ভিত্তি নির্মাণ, স্টিলের বেড়া, বিদ্যুৎ সংযোগ, ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ, সড়ক খনন, ক্যামেরা, নিয়ন্ত্রণ বক্স, ট্যাবসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে ভবিষ্যতের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ধরা হয়নি।

দুই সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থার নকশা ও প্রযুক্তিগত অংশে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) যুক্ত থাকবে। বুয়েট যানবাহন চলাচলের জরিপের পাশাপাশি সিগন্যাল, ক্যামেরা, নিয়ন্ত্রণ বক্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত ঠিকাদাররা অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ করবে।

ডিএনসিসির ২৮টি সিগন্যাল স্থাপনের পূর্তকাজে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা এবং প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও বুয়েটের পরামর্শ বাবদ আরও প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ডিএসসিসির ক্ষেত্রে পূর্তকাজে প্রায় ৩৫ কোটি এবং বুয়েটের কাজ ও সরঞ্জামের জন্য প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

এর আগে ঢাকার ২২টি মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ধরনের ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছিল। এসব সিগন্যালে পরে এআই ক্যামেরা যুক্ত করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বয়ংক্রিয় করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব স্থানে চালকদের সিগন্যাল মানার প্রবণতা বেড়েছে এবং জেব্রাক্রসিংয়ের আগে গাড়ি থামানোর অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে।

নতুন প্রকল্পের আওতায় ডিএনসিসির যেসব এলাকায় সিগন্যাল বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, আসাদ গেট, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, আগারগাঁও, গুলশান, নিকেতন, তেজগাঁও, মহাখালী ও হাতিরঝিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

ডিএসসিসির আওতায় আজিমপুর, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি, কাঁটাবন, কাকরাইল, বিজয়নগর, পল্টন, গুলিস্তান, মগবাজার, মিন্টো রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ ২২টি স্থানে সিগন্যাল স্থাপন করা হবে।

দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দরপত্র ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। তবে কাজ শুরুর সময় নিয়ে দুই সংস্থার কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু সিগন্যাল স্থাপন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সিগন্যালের পাশাপাশি লেন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রায় ১০০ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত ঢাকার যানজট ও বিশৃঙ্খলা কতটা কমাতে পারে, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। প্রযুক্তির পাশাপাশি সড়কে নিয়ম মানার সংস্কৃতি ও কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।