নির্বাচনের পরই পদ ছাড়তে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
ডেস্ক নিউজ, ১২ ডিসেম্বর : বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন—এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নেওয়া এক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
রয়টার্সকে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস প্রায় সাত মাস ধরে তাঁর সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি। শুধু তা-ই নয়—
রাষ্ট্রপতির প্রেস বিভাগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে,
বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোতে থাকা রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি সেপ্টেম্বরেই হঠাৎ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষায়,
“এক রাতে সব প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলায় জনগণের কাছে ভুল বার্তা গেছে—মনে হয়েছে আমাকে হয়তো সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছি।”
তিনি জানান, প্রতিকৃতি অপসারণের বিষয়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে লিখিতভাবে জানালেও “কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি” এবং তিনি অনুভব করছেন যে “আমার কণ্ঠরোধ করা হয়েছে”।
৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন বলেন,
“আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি বেরিয়ে যেতে চাই। তবে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করব।”
এটি দায়িত্ব গ্রহণের পর গণমাধ্যমে দেওয়া তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকার, বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সাহাবুদ্দিন। পরে দলটি ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে সংসদ বিলুপ্ত হয় এবং সে সময় রাষ্ট্রপতিই ছিলেন একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ। এরপর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তবে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য জানায়নি।
রাষ্ট্রপতির এই অবস্থান বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পূর্ববর্তী সংবাদ
পরবর্তী সংবাদ