২০৩০ সালে পুরো পৃথিবীকে জ্বালানি দিতে পারবে জার্মানি!
জার্মান প্রতিনিধি, ১৩ ডিসেম্বর : মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইনের দেশ জার্মানির বিজ্ঞানীরা এমন এক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জন করেছেন, যা ভবিষ্যতে পুরো পৃথিবীর জ্বালানি সংকট দূর করে দিতে পারে। দেশটির বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা ওয়েন্ডেলস্টাইন ৭-এক্স (W7-X) ফিউশন রিঅ্যাক্টরকে আরও পরিমার্জন করে নতুন এক বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন—৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে স্থিতিশীল প্লাজমা ধরে রাখা।
এই ফিউশন রিঅ্যাক্টরটি সূর্যের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে অনুকরণ করে হাইড্রোজেনকে হিলিয়ামে রূপান্তরিত করে, যার ফলে উৎপন্ন হয় সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত ও নিরাপদ শক্তি। বহু বছরের গবেষণা ও উন্নয়নের পর এটাই এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ও স্থিতিশীল প্লাজমা বন্দোবস্ত, যা ফিউশন শক্তিকে বাস্তব ব্যবহারের দিকে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ এগিয়ে দিল।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ফিউশন শক্তি প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় অসংখ্য গুণ বেশি শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম, এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রায় নেই বললেই চলে। প্লাজমার স্থিতিশীলতা দেখিয়ে দিয়েছে যে প্রযুক্তিটি আর কেবল তত্ত্ব নয়—বাস্তব বিশ্বের জন্য ব্যবহারযোগ্যতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
শক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সব কিছু ঠিকভাবে চললে ২০৩০ সালের মধ্যেই এই ফিউশন রিঅ্যাক্টরকে ইউরোপের পাওয়ার গ্রিডের সাথে যুক্ত করা সম্ভব হবে। সফল হলে পৃথিবীর যে কোনো দেশ এ প্রযুক্তির সুফল পেতে পারে, এবং মানবজাতি প্রবেশ করবে এক নতুন যুগে—প্রায় সীমাহীন শক্তিতে ভরপুর, কোনো পরিবেশগত ক্ষতি ছাড়া।
বিশ্ব যখন জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি সংকটে দিশেহারা, ঠিক তখনই জার্মানির এই সাফল্য ভবিষ্যতের জন্য এক বিশাল আশার আলো হয়ে উঠেছে।