দেশে ভারী বৃষ্টিতে ৪৩ জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, বিপাকে ৫ লাখের বেশি কৃষক

দেশে ভারী বৃষ্টিতে ৪৩ জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, বিপাকে ৫ লাখের বেশি কৃষক

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১৫ জুলাই:

টানা ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় দেশের ৪৩ জেলার কৃষি খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। সরকারি হিসাবে, এ পর্যন্ত ৫ লাখের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এক লাখ ১৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, আদা, হলুদ ও পেঁপে চাষে।

সরকারি হিসাব বলছে, প্রায় ৭৯ হাজার ৫০০ হেক্টর আউশ ধানের জমি, ১০ হাজার ৫০৪ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খুলনা, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, টানা বৃষ্টিতে বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় সবজির ক্ষেত পচে নষ্ট হয়েছে। ফলে নতুন করে বীজ, সার ও শ্রম ব্যয় করতে হবে, যা তাদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।

পানের বরজেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। কয়েকজন পানচাষী জানিয়েছেন, তাদের সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ঋণ নিয়ে চাষ করা অনেক কৃষক এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

দুর্যোগের প্রভাব শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নেই। টানা বৃষ্টিতে নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ও কমে গেছে। অনেক রিকশাচালক ও দিনমজুর জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে যাত্রী ও কাজ কমে যাওয়ায় দৈনিক আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব করা হচ্ছে। তালিকা প্রস্তুত শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দিয়ে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে কৃষি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত পানি নেমে গেলে কিছু ফসল পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকবে। তবে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হলে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, সবজি, গবাদিপশু ও মৎস্য খাতেও ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের সরবরাহ কমে গিয়ে বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত পুনর্বাসন, উন্নতমানের বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এখন সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ।