অস্বাভাবিক’ আবহাওয়া এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে যুক্তরাজ্যে
লন্ডন, ১৫ জুলাই: যুক্তরাজ্যের আবহাওয়ায় এক সময় যেসব ঘটনা ‘চরম’ বলে বিবেচিত হতো, সেগুলো এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের নতুন এক জলবায়ু বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৫ সাল ছিল যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক চার বছর দেশটির রেকর্ডের পাঁচটি উষ্ণতম বছরের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউকে ক্লাইমেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮৮৪ সাল থেকে সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের মতো এত বেশি গড় তাপমাত্রা আগে কখনও রেকর্ড হয়নি। গবেষকদের মতে, বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিই এ পরিবর্তনের প্রধান কারণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বসন্ত ও গ্রীষ্মকাল দেখা গেছে। একই সময়ে ইংল্যান্ডে গত একশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক বসন্তও রেকর্ড করা হয়েছে, যা কৃষি, পানি সরবরাহ এবং পরিবেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে চলতি বছরও পরিস্থিতির উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক তাপপ্রবাহের সমান হয়ে গেছে।
প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও ন্যাশনাল ক্লাইমেট ইনফরমেশন সেন্টারের বিজ্ঞানী মাইক কেনডনের ভাষায়, আগে যেসব তাপমাত্রা বা আবহাওয়াকে ব্যতিক্রমী মনে করা হতো, এখন সেগুলোই নতুন স্বাভাবিক অবস্থায় পরিণত হচ্ছে। প্রতি বছরই জলবায়ুর পরিবর্তনের নতুন নতুন প্রমাণ যুক্ত হচ্ছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কেন্ট থেকে লিংকনশায়ার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের গড় তাপমাত্রা ১৯৬১-১৯৯০ সময়ের তুলনায় গত এক দশকে প্রায় ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।
গ্রেটার লন্ডনে ৩০ ডিগ্রির বেশি গরম দিনের সংখ্যা এবং ১৮ ডিগ্রির বেশি উষ্ণ রাতের সংখ্যা আগের তুলনায় চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের তুলনামূলক শীতল এলাকাগুলোতেও এখন এমন তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে, যা কয়েক দশক আগে শুধু লন্ডনেই সীমাবদ্ধ ছিল।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, উষ্ণ বায়ু বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। ফলে ভারী বৃষ্টিপাতের ঝুঁকিও বাড়ছে। ১৯৬১-১৯৯০ সময়ের তুলনায় বর্তমানে সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের দিনের সংখ্যা ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। এতে আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যের জলবায়ু দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই তাপপ্রবাহ, খরা, ভারী বৃষ্টি ও বন্যার মতো চরম আবহাওয়াকে সামনে রেখে নগর পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।