ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
খরার সময় বাড়তে পারে পানির দাম, ব্রিটেনে নতুন মূল্যব্যবস্থার উদ্যোগ
লন্ডন, ১৬ আগস্ট: খরা ও পানির চাহিদা বেড়ে গেলে ব্রিটেনে পানির দাম বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে বেসরকারি পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। শিল্প নিয়ন্ত্রক Ofwat এমন একটি মূল্যব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে পানির সংকটের সময় বেশি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ নেওয়া সম্ভব হবে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে গ্রাহক অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
দি টেলিগ্রাফের ১৫ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ খরা এবং গরম আবহাওয়ার কারণে পানির চাহিদা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়, তখন বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বেশি ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়ার পথ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও খরার মৌসুমে পানির দাম বাড়ানো এবং শীতকালে তুলনামূলক কম রাখার মতো সিজনাল ট্যারিফ ব্যবস্থাও এর অংশ হতে পারে।
Ofwat-এর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এ ধরনের মূল্যব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলছে। যেমন Anglian Water-এর পরীক্ষায় গ্রীষ্মকালে পানির দাম শীতের তুলনায় বেশি রাখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, এতে তিনজন গ্রাহকের মধ্যে প্রায় দুজনের বিল আগের তুলনায় একই থাকতে পারে অথবা সামান্য কমতে পারে।
তবে উচ্চ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বিল বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি পরীক্ষায় গ্রীষ্মকালে বেশি পানি ব্যবহারকারীদের বছরে প্রায় ১৮ পাউন্ড পর্যন্ত অতিরিক্ত দিতে হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। লক্ষ্য হলো দামকে পানির প্রাপ্যতা ও ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত করে মানুষকে অপচয় কমাতে উৎসাহিত করা।
সরকারও পরীক্ষামূলকভাবে মৌসুমি ট্যারিফ ব্যবস্থাকে সমর্থন করেছে। ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য, নতুন ধরনের মূল্যব্যবস্থা সফল হলে তা পানির ব্যবহার কমাতে এবং অনেক পরিবারের বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
খরায় বিপর্যস্ত ব্রিটেন
এই বিতর্কের সময়েই ব্রিটেন ভয়াবহ পানিসংকটের মুখে পড়েছে। ১০ আগস্ট পর্যন্ত ইংল্যান্ডের প্রায় ৭১.৩ শতাংশ এলাকা খরার মধ্যে ছিল এবং প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ পানির ব্যবহারসংক্রান্ত বিধিনিষেধের আওতায় ছিল।
সরকারের হিসাবে, জুলাই মাসে ইংল্যান্ডে স্বাভাবিকের মাত্র ৭ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে; দক্ষিণ ইংল্যান্ডে এই হার নেমে এসেছে মাত্র ১ শতাংশে। দীর্ঘস্থায়ী গরম ও বৃষ্টির ঘাটতিতে নদী, জলাধার ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও চাপের মুখে পড়েছে।
এ অবস্থায় পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—পানি সংকটের দায় কি গ্রাহকদের বেশি বিল দিয়ে মেটানো হবে, নাকি দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও পানির অপচয় কমানোর দিকে আগে নজর দেওয়া হবে?
সমালোচকদের যুক্তি, বছরের পর বছর পাইপলাইনের লিকেজ, অপর্যাপ্ত জলাধার এবং অবকাঠামোয় বিনিয়োগের ঘাটতির দায় সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হলে তা ন্যায্য হবে না। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক ও পানি কোম্পানিগুলোর যুক্তি, পানির সংকট মোকাবিলায় শুধু নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা নয়, চাহিদা কমানোও জরুরি।
Ofwat-এর বর্তমান পরিকল্পনায় স্মার্ট মিটার, মৌসুমি মূল্য এবং বেশি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে বাড়তি মূল্য নেওয়ার মতো পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে—যখন পানি সবচেয়ে বেশি সংকটে থাকে, তখন দামকে একটি সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে ভোক্তাদের ব্যবহার কমানো।
তবে ব্রিটেনের বর্তমান খরা পরিস্থিতিতে প্রশ্নটি এখন শুধু পানির দাম নিয়ে নয়; বরং একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—পানির সংকট মোকাবিলার খরচ শেষ পর্যন্ত কতটা গ্রাহক বহন করবেন, আর কতটা বহন করবে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো?