ডাস্টবিনে ‘কূটনৈতিক উপহার’, বাড়ছে ওয়াশিংটন-বেইজিং অবিশ্বাস

ডাস্টবিনে ‘কূটনৈতিক উপহার’, বাড়ছে ওয়াশিংটন-বেইজিং অবিশ্বাস

বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক:

চীনের মাটিতে পাওয়া সব উপহার, ব্যাজ, ফোন ও স্মারক শেষ পর্যন্ত জায়গা পেল বিমানবন্দরের ডাস্টবিনে। কূটনৈতিক সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার আগেই এমন ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। আর এ ঘটনাই নতুন করে সামনে আনলো ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের গভীর অবিশ্বাসের বাস্তবতা।

শুক্রবার বেইজিং ত্যাগের আগে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া বিভিন্ন সামগ্রী ফেলে দেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসবের মধ্যে ছিল বার্নার ফোন, পরিচয়পত্র, ব্যাজ, প্রেস আমন্ত্রণপত্র এবং সফরস্মারক উপহার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার টিম এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগেই এসব জিনিস সরিয়ে ফেলা হয়। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বিভাগ ও সিক্রেট সার্ভিস এ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে।

নিউইয়র্ক পোস্টের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা এমিলি গডিন সামাজিক মাধ্যমে জানান, চীনা উৎসের কোনো সামগ্রী বিমানটিতে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। ফলে সফর শেষে পাওয়া সব উপহার ও সরঞ্জাম বিমানবন্দরের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এসব ডিভাইস বা উপহারের মাধ্যমে নজরদারি কিংবা ট্র্যাকিংয়ের ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাইবার যুদ্ধ, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমরাও তাদের ওপর ব্যাপকভাবে গুপ্তচরবৃত্তি করি।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘটনাটি কেবল নিরাপত্তা সতর্কতা নয়; বরং দুই পরাশক্তির সম্পর্ক কতটা অবিশ্বাস ও সন্দেহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে, সেটিরও প্রতীকী প্রকাশ। কূটনৈতিক সৌজন্যের উপহার যেখানে সাধারণত সম্পর্কের উষ্ণতার প্রতীক হয়, সেখানে এবার সেই উপহারই পরিণত হয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রতীকে।

বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক এখন শুধু বাণিজ্য বা কূটনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তি, সামরিক সক্ষমতা, তথ্য নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।