সোনালি ফোন কেলেঙ্কারি: ট্রাম্পের দুই ছেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

সোনালি ফোন কেলেঙ্কারি: ট্রাম্পের দুই ছেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিবারের নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ ঘিরে এবার বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোনালি রঙের বিলাসবহুল স্মার্টফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়ে লাখো আমেরিকানের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে ফোন সরবরাহ না করায় ট্রাম্প পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং এরিক ট্রাম্পকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে তীব্র ক্ষোভ।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান “টি১” নামের একটি বিশেষ স্মার্টফোন বাজারে আনার ঘোষণা দেয়। সম্পূর্ণ সোনালি রঙের এই ফোনকে “মেড ইন ইউএসএ” হিসেবে প্রচার করা হয়। ফোনটির দাম ধরা হয় ৪৯৯ ডলার। তবে আগাম বুকিংয়ের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ১০০ ডলার করে।

ঘোষণার পর ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। প্রায় ছয় লাখ মানুষ ফোনটির জন্য অগ্রিম অর্থ জমা দেন বলে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রায় ছয় কোটি ডলার সংগ্রহ করে ট্রাম্প পরিবারের প্রতিষ্ঠানটি।

প্রথমে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের আগস্টেই ফোন বাজারে আসবে। পরে তা পিছিয়ে সেপ্টেম্বর করা হয়। এরপর আবার জানানো হয়, সরকারি নীতিগত জটিলতার কারণে সরবরাহ বিলম্বিত হচ্ছে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গ্রাহকদের হাতে ফোন পৌঁছে যাবে। কিন্তু চলতি বছরের মে মাস পর্যন্তও ফোন সরবরাহের কোনো নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবে কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা এক্স ও টিকটকে “Where is my Trump phone?” শিরোনামে প্রচার শুরু করেছেন। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে এক ট্রাম্প সমর্থককে বলতে শোনা যায়, “আমি চারটি টি১ ফোনের অর্ডার করেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই পাইনি।”

বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে ট্রাম্প প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে থাকা শর্তাবলি সামনে আসার পর। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, অগ্রিম অর্থ জমা দিলেও ফোন উৎপাদন বা সরবরাহের কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমনকি গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বিক্রয় চুক্তিও হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে “মেড ইন আমেরিকা” স্লোগান ব্যবহার করলেও পরে সেটি বদলে “আমেরিকান মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত ডিজাইন” বলা হয়, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। ফোনটির প্রচারিত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ছিল ৬.৮ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে, ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ১২ জিবি র‌্যাম, ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং এআইভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

শুধু ফোন নয়, মাসে ৪৭.৪৫ ডলারের বিশেষ সাবস্ক্রিপশন সেবারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এতে সীমাহীন কল, ডেটা ও শতাধিক দেশে আন্তর্জাতিক কল সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্পের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট মেয়াদকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতেই এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, Trump Media & Technology Group চলতি বছরে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বছরের প্রথম তিন মাসেই প্রতিষ্ঠানটির ক্ষতির পরিমাণ ৪০ কোটি ডলারের বেশি বলে জানা গেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বড় বিনিয়োগ এবং কমে যাওয়া রাজস্বের কারণে প্রতিষ্ঠানটি চাপের মধ্যে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এমন সময় ট্রাম্প পরিবারের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ রিপাবলিকান শিবিরের জন্য নতুন অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শুল্কযুদ্ধ, ইরান সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই এই ফোন বিতর্ক ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় আরও ধাক্কা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।