বাংলাদেশ সংবাদ

গত আট মাসে নদী থেকে ৩৭৯টি মরদেহ উদ্ধার

গত আট মাসে নদী থেকে ৩৭৯টি মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১৮ সেপ্টেম্বর:

বাংলাদেশের নদ-নদীতে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। নৌপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন নদী থেকে মোট ৩৭৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

শুধু জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাসেই নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৭১টি মরদেহ। এর মধ্যে ১২৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে, কিন্তু ৪৮টি মরদেহ এখনো পরিচয়হীন। একই সময়ে ১৫টি ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে সাতজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

নদী থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মরদেহ যে হত্যাকাণ্ডের শিকার, তা নয়। নৌকাডুবি, পানিতে ডুবে মৃত্যু, নিখোঁজ ব্যক্তি কিংবা যানবাহন নদীতে পড়ে যাওয়ার মতো বিভিন্ন কারণেও মরদেহ উদ্ধার হয়। তবে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।

নদীর পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে মরদেহ দ্রুত পচে যায়। এতে পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে মাছের কামড় কিংবা নৌযানের আঘাতে শরীরে ক্ষত তৈরি হওয়ায় সেটি হত্যার আলামত কি না, তা নিশ্চিত করতেও তদন্তকারীদের সমস্যায় পড়তে হয়।

বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদী থেকে তুলনামূলক বেশি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। নৌপুলিশ বলছে, প্রতিটি মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়। পরিচয় শনাক্ত ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারস্থল থেকে পাওয়া আলামত ব্যবহার করা হচ্ছে।

নৌপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আট মাসে ৩৭৯টি মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে নদী থেকে আরও ২ হাজার ৬৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এসবের মধ্যে কয়েক শ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নদী শুধু দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সাক্ষী নয়, অজ্ঞাত মরদেহ ও সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠেছে।