ব্রিটেন সংবাদ
ব্রিটেনে তরুণদের বেকারত্ব ১৬.৪ শতাংশ, কমছে চাকরির সুযোগ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৮ সেপ্টেম্বর :
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি হাতে নিয়ে চাকরির বাজারে প্রবেশ করা ব্রিটেনের তরুণদের জন্য সময়টা সহজ যাচ্ছে না। সামগ্রিকভাবে দেশটির শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি কমেছে, চাকরির শূন্যপদ কমেছে এবং তরুণদের বেকারত্ব বেড়েছে। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৭ লাখ ৫১ হাজার তরুণ এখন বেকার—এক বছর আগের তুলনায় ১ লাখ ৯ হাজার বেশি।
হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ে তরুণদের বেকারত্বের হার বেড়ে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগে এই হার ছিল ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে কর্মরত তরুণের সংখ্যা কমেছে ৩৬ হাজার।
চাকরির সুযোগও কমছে
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) সর্বশেষ হিসাব আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। জুন থেকে আগস্ট ২০২৬ সময়ে ব্রিটেনে মোট চাকরির শূন্যপদ কমে ৭ লাখ ২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। আগের তিন মাসের তুলনায় কমেছে ৮ হাজার। এটি কোভিড মহামারির সময় বাদ দিলে ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি।
বর্তমানে প্রতি একটি শূন্যপদের বিপরীতে গড়ে ২ দশমিক ৫ জন বেকার রয়েছেন। এক বছর আগে এই অনুপাত ছিল ২ দশমিক ৩। অর্থাৎ চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা আগের তুলনায় বেড়েছে।
ওএনএস বলছে, ১৮টি প্রধান শিল্পখাতের মধ্যে ১০টিতেই শূন্যপদ কমেছে। শিক্ষা খাতে কমেছে ৫ হাজার এবং ছোট ব্যবসা—যেখানে কর্মী ১ থেকে ৯ জন—সেখানে শূন্যপদ কমেছে ৭ হাজার। বাড়তি শ্রম ব্যয়ের কারণে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে বলে ওএনএসের জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
শিক্ষিত তরুণদের জন্য সমস্যাটা কোথায়?
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি চাকরির নিশ্চয়তা দিচ্ছে না—বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শুরুতে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও নিয়োগের প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োগে বেশি আগ্রহী হলেও নতুন গ্র্যাজুয়েট নিয়োগ কমাচ্ছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত ব্যবহার কিছু পেশায় প্রবেশ-স্তরের চাকরির ধরনও বদলে দিচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কম্পিউটার সায়েন্সে পড়া গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে প্রোগ্রামার বা কোডার হিসেবে চাকরিতে যাওয়ার হার এক বছরে ৪০ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে নেমেছে। গ্র্যাজুয়েট-লেভেলের চাকরিতে যাওয়ার হারও দুই বছর আগের ৬০ শতাংশের বেশি থেকে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমেছে। তবে এর অর্থ সব ধরনের প্রযুক্তি চাকরি কমছে এমন নয়; সাইবার নিরাপত্তাসহ নতুন কিছু ক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েটরা কাজের সুযোগ খুঁজে নিচ্ছেন।
তবে ডিগ্রির মূল্য একেবারে কমে যায়নি
চাকরির বাজার কঠিন হলেও উচ্চশিক্ষার আর্থিক সুবিধা এখনও রয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজের (আইএফএস) জুন ২০২৬-এর গবেষণায় দেখা যায়, ৩০ বছর বয়সে নারী গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যম আয় ছিল প্রায় £৩৫,০০০, যেখানে নন-গ্র্যাজুয়েট নারীদের আয় প্রায় £২২,০০০। পুরুষ গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যম আয় ছিল প্রায় £৪২,০০০, নন-গ্র্যাজুয়েট পুরুষদের £৩৪,০০০-এর তুলনায়।
অর্থাৎ সমস্যাটি শুধু ‘ডিগ্রি নিয়ে চাকরি পাওয়া যাচ্ছে না’—এমন সরল নয়। বরং চাকরিতে প্রবেশের প্রথম ধাপটি কঠিন হয়ে উঠছে, বিশেষ করে তরুণদের জন্য। একই সময়ে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিয়োগকারীদের দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বদলে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত ডিগ্রি এবং চাকরির বাজারের প্রয়োজনের মধ্যে নতুন ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ে ১৬–৬৪ বছর বয়সীদের সামগ্রিক কর্মসংস্থানের হার ছিল ৭৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। কিন্তু তরুণদের বেকারত্বের হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ—যা দেখাচ্ছে, শ্রমবাজারের চাপ সব বয়সের মানুষের ওপর সমানভাবে পড়ছে না।