ব্রিটেন সংবাদ

আশ্রয়প্রাপ্ত বাংলাদেশিদের মর্যাদা পুনর্বিবেচনা করবে কি ব্রিটেন?

আশ্রয়প্রাপ্ত বাংলাদেশিদের মর্যাদা পুনর্বিবেচনা করবে কি ব্রিটেন?

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৮ সেপ্টেম্বর :

বাংলাদেশের সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক নিপীড়নের আশঙ্কায় ব্রিটেনে আশ্রয় পাওয়া বাংলাদেশিদের শরণার্থী মর্যাদা, মানবিক সুরক্ষা এবং পরবর্তী সময়ে দেওয়া স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না—এ প্রশ্ন উঠেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে।

৮ সেপ্টেম্বর গ্রেট ইয়ারমাউথের এমপি রুপার্ট লো হোম সেক্রেটারির কাছে জানতে চান, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে নিপীড়নের ঝুঁকির ভিত্তিতে সুরক্ষা পাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের শরণার্থী মর্যাদা, মানবিক সুরক্ষা এবং পরবর্তী সেটেলমেন্ট দেওয়া হয়েছে কি না—তা সরকার পুনর্বিবেচনা করার পরিকল্পনা করছে কি না। প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া হয় ১৭ সেপ্টেম্বর

হোম অফিসের পক্ষ থেকে দেওয়া উত্তরে বলা হয়েছে, সরকার বর্তমানে ব্রিটেনে আশ্রয় ও শরণার্থী সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন নীতি চালু করেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘কোর প্রোটেকশন’। এই নীতির লক্ষ্য হলো আগের মতো স্থায়ী সুরক্ষার ধারণার পরিবর্তে একজন ব্যক্তির নিজ দেশে নিরাপত্তার প্রয়োজন যতদিন থাকবে, ততদিন সুরক্ষা দেওয়া।

তবে পার্লামেন্টের ওই প্রশ্নের উত্তরে সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বর্তমান শরণার্থী মর্যাদা গণহারে পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করার কোনো ঘোষণা দেয়নি। বরং উত্তরটি নতুন আশ্রয় নীতির সাধারণ কাঠামো সম্পর্কে দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়মে ৩০ মাসের সুরক্ষা

২ মার্চ ২০২৬ থেকে যারা ব্রিটেনে নতুন করে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন এবং আবেদন মঞ্জুর হয়েছে, তাদের অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ও সঙ্গে থাকা শিশুদের সাধারণত ৩০ মাসের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এরপর সুরক্ষা প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করে আরও সময় দেওয়া হতে পারে।

আগের ব্যবস্থায় সফল আশ্রয়প্রার্থীদের সাধারণত পাঁচ বছরের থাকার অনুমতি দেওয়া হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই প্রাথমিক মেয়াদ কমিয়ে ৩০ মাস করা হয়েছে। সরকার বলছে, যাদের নিজ দেশে এখনও গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে, তাদের সুরক্ষা নবায়ন করা হবে। অন্যদিকে নিজ দেশ নিরাপদ হয়ে গেলে তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা থাকবে।

তবে ২ মার্চ ২০২৬-এর আগে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিরা সাধারণভাবে আগের ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন। সরকারি পরিসংখ্যানেও বলা হয়েছে, ওই তারিখের আগে আবেদনকারীদের সফল ক্ষেত্রে সাধারণত পাঁচ বছরের অনুমতি দেওয়ার পুরোনো ব্যবস্থা বহাল রয়েছে।

স্থায়ী বসবাসের পথও দীর্ঘ হচ্ছে

সরকারের ‘কোর প্রোটেকশন’ পরিকল্পনায় শুধু প্রাথমিক থাকার মেয়াদ কমানো হয়নি; স্থায়ী বসবাসের পথও দীর্ঘ করার প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের নীতিপত্র অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় শরণার্থী হিসেবে থাকা ব্যক্তিদের স্থায়ী সেটেলমেন্টের জন্য সাধারণ পথ ২০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। তবে কাজ বা পড়াশোনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বৈধ ভিসা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তুলনামূলক দ্রুত সেটেলমেন্টের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার মূল ধারণা হলো—শরণার্থী সুরক্ষা এমন একটি ব্যবস্থা হবে যা ব্যক্তির নিরাপত্তার প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, স্থায়ীভাবে ব্রিটেনে বসবাসের স্বয়ংক্রিয় পথ হিসেবে কাজ করবে না।

বাংলাদেশিদের জন্য এর অর্থ কী?

বর্তমানে ব্রিটেনে থাকা বাংলাদেশি শরণার্থীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের ব্যক্তিগত আবেদন কবে করা হয়েছিল এবং কোন ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। ২ মার্চ ২০২৬-এর আগে করা আবেদনের ক্ষেত্রে পুরোনো পাঁচ বছরের ব্যবস্থা প্রযোজ্য হওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। নতুন নিয়ম মূলত ওই তারিখ থেকে করা নতুন আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

তাই পার্লামেন্টে ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রশ্নটি নিয়ে এমন ধারণা করা ঠিক হবে না যে ব্রিটেনে থাকা সব বাংলাদেশি শরণার্থীর স্ট্যাটাস এখনই বাতিল বা নতুন করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সরকারের প্রকাশিত উত্তরে এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি। বরং সরকার নতুন ‘কোর প্রোটেকশন’ নীতির দিকে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে।

এদিকে নতুন নিয়মে যেসব বাংলাদেশি ২ মার্চ ২০২৬-এর পর আশ্রয়ের আবেদন করে সুরক্ষা পেয়েছেন, তাদের জন্য ৩০ মাসের থাকার অনুমতি, পরবর্তী সময়ে সুরক্ষা প্রয়োজন আছে কি না তার মূল্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সেটেলমেন্টের পরিবর্তিত নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।