ব্রিটেন সংবাদ

নিজেদের বিদ্যুৎ প্রকল্পে অংশীদার হবে স্থানীয় মানুষ, ব্রিটেনে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের উদ্যোগ

নিজেদের বিদ্যুৎ প্রকল্পে অংশীদার হবে স্থানীয় মানুষ, ব্রিটেনে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের উদ্যোগ

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৮ সেপ্টেম্বর :

ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর ও গ্রামের মানুষকে নিজেদের এলাকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের মালিকানায় যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থায়ন ঘোষণা করা হয়েছে। ‘পিপলস পাওয়ার’ কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় কাউন্সিল ও কমিউনিটি গ্রুপগুলো সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলতে পারবে।

সহজ কথায়, কোনো এলাকায় সৌর প্যানেল, বায়ু টারবাইন বা অন্য কোনো পরিষ্কার জ্বালানি প্রকল্প হলে স্থানীয় মানুষ শুধু সেই প্রকল্পের আশপাশে বসবাসকারী হিসেবে থাকবেন না—কমিউনিটির মাধ্যমে প্রকল্পের মালিকানাতেও অংশ নিতে পারবেন। ফলে প্রকল্পে স্থানীয় মালিকানা থাকবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রি থেকে আয় হলে তার একটি অংশ স্থানীয় কমিউনিটির হাতে থাকার সুযোগ তৈরি হবে।

এর আর্থিক সুবিধা সরাসরি প্রত্যেক বাসিন্দার ব্যাংক হিসাবে নির্দিষ্ট টাকা দেওয়ার মতো নয়। বরং প্রকল্প থেকে পাওয়া অর্থ স্থানীয় কমিউনিটির হাতে থেকে এলাকার উন্নয়ন, স্থানীয় সেবা, নতুন প্রকল্প ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থাৎ স্থানীয় এলাকায় উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্থনৈতিক সুফলের একটি অংশ সেই এলাকার মানুষের কাছেই ফিরে আসার সুযোগ থাকবে।

সরকারের পরিকল্পনা হলো, এই উদ্যোগকে ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া। ‘গ্রেট ব্রিটিশ এনার্জি’ কর্মসূচির অধীনে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করে এক হাজারের বেশি ‘পিপলস পাওয়ার’ প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, এর মাধ্যমে জনগণকে শুধু জ্বালানি ব্যবস্থার ভোক্তা হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় মালিকানা ও অর্থনৈতিক সুফলের অংশীদার করা হবে।

সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে জ্বালানি খরচ ও জলবায়ু পরিবর্তন—দুই বিষয়ই রয়েছে। ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ব্রিটেনের রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ ছিল বলে প্রাথমিক তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এর আগে সরকার অক্টোবর থেকে গৃহস্থালির বিদ্যুৎ বিলের ভ্যাট প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে। নতুন কমিউনিটি জ্বালানি প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটেনের নিজস্ব পরিষ্কার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের হাতে সেই জ্বালানি ব্যবস্থার মালিকানা ও অর্থনৈতিক সুফলের একটি অংশ তুলে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।