বাংলাদেশ সংবাদ
প্রবাসীদের জন্য পর্যটন মহাপরিকল্পনায় ১,৪৯৮ আকর্ষণ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৮ সেপ্টেম্বর :
বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে নতুনভাবে সাজাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে নিয়ে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য হলো ছড়িয়ে থাকা পর্যটন সম্ভাবনাগুলোকে একটি পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ব্যবস্থার আওতায় আনা। বৃহস্পতিবার ঢাকায় ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার উদ্বোধনকালে এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশে ছুটিতে আসা ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জন্যও ভ্রমণের সুযোগ বাড়তে পারে। এতদিন বিদেশে থাকা অনেক বাংলাদেশি দেশে এসে মূলত কক্সবাজার, সিলেট, সুন্দরবন কিংবা নিজ জেলার পরিচিত কয়েকটি জায়গায় ঘুরতেন। নতুন পরিকল্পনায় পাহাড়, হ্রদ, চা-বাগান, নদী ও জলাভূমি, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, পর্যটনকেন্দ্রগুলো শুধু সাজানো নয়, পরিবেশবান্ধব ও টেকসইভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের যুক্ত করে কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটন ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়াতে ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হোটেল-মোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বলে গত মাসে জানানো হয়েছিল। ফলে মহাপরিকল্পনার সঙ্গে এ ধরনের সুবিধা বাস্তবায়িত হলে দেশে বেড়াতে আসা প্রবাসী পরিবারগুলো তুলনামূলক কম খরচে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে থাকার সুযোগ পেতে পারেন।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পর্যটন মহাপরিকল্পনাটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত করার আশা করা হচ্ছে। তবে ১ হাজার ৪৯৮টি আকর্ষণের সবগুলো কবে নাগাদ পর্যটনকেন্দ্রে রূপ নেবে, তা এখনো নির্দিষ্ট নয়। তাই প্রবাসীদের জন্য এটি আপাতত একটি বড় পরিকল্পনা—বাস্তব সুবিধা পেতে অপেক্ষা করতে হবে বাস্তবায়নের অগ্রগতির জন্য।