দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরার পর নতুন সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা
ভয়েস অব পিপল এর নিজস্ব প্রতিনিধি, ১৯ ফেব্রুয়ারি:
নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আস্থা ফিরিয়ে দিতে চায়। নতুন সরকার জীবনযাত্রার কষ্ট কমাতে এবং দেশের অর্থনীতিতে সুবাতাস আনার জন্য ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, যা সরকারের অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও কার্যকরী গতিমুখ নির্দেশ করবে।
সরকারের প্রথম দিনেই মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে মন্ত্রীদের কর্মব্যস্ততা এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ইতিমধ্যেই কিছু অগ্রাধিকারসূচক বিষয়ে আলোচিত হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিশ্চয়তা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা কাটানো, সেবামুখী প্রশাসন এবং ব্যবসায়-উদ্যোগে ছন্দ ফেরানো সরকার ঘোষিত প্রাথমিক লক্ষ্য।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যেহেতু উনি রাজনীতি করেন, উনার ইশতেহার আছে। সচিবরা সবাই সরকারি কর্মকর্তা, তারা রাজনীতির অংশ না। জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে জাতীয়তাবাদী দলের ইশতেহার দেখে, নিশ্চয়ই তারা ইশতেহারকে পছন্দ করেন। সেই ইশতেহার যেন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী সচিবদের অনুরোধ করেছেন। মেধাকে কাজে লাগিয়ে জনস্বার্থে দেশের জন্য ভালো কাজ করতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।’
নতুন সরকার প্রথম দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে সব অগ্রাধিকার ঘোষণা না করলেও, ছয় মাসের মধ্যে পরীক্ষিত ফল প্রদানের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। সচিবালয়ের মন্ত্রিসভার বৈঠক এবং পৃথক সভায় কর্মকর্তাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রোজার মাসে চ্যালেঞ্জ
দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরার দিনেই নতুন সরকার রোজার মাসের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার নির্দেশনা মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেছেন, “দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সেই বিষয়ে ব্যবসায়ীরা দায়িত্বশীল হবেন।”
সরকারের ১৮০ দিনের প্রধান অগ্রাধিকার (পয়েন্ট আকারে)
১. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ।
২. আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ: পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী পুনর্বিন্যস্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ। মব কালচার, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ।
৩. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা: রোজা ও উৎসবকালীন সময়ে বিদ্যুৎ সেবার নিশ্চিতকরণ; দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১৫০ কূপ খননের উদ্যোগ এবং ‘সমন্বিত রোডম্যাপ’ প্রণয়ন।
৪. দুর্নীতি প্রতিরোধ ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা: সরকারি সুবিধা গ্রহণে বিধিনিষেধ, সরকারি-অধিকারের স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা।
৫. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থান ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ।
৬. শিক্ষাক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা: অস্থিরতা দূর করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ও মানসম্মত পরিবেশ সৃষ্টি।
৭. ব্যবসা-বাণিজ্যে ছন্দ ফেরানো: বাজারে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ঋণ নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি।
৮. সেবামুখী প্রশাসন: নাগরিক সেবায় কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলা।
৯. বাজেট প্রণয়ন ও আর্থিক পরিকল্পনা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নসহ ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন।
নতুন সরকার ক্ষমতায় ফেরার প্রথম দিনেই এ অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা; রাজনৈতিক প্রভাব নয়।”
সরকার আশা করছে, প্রথম ১৮০ দিনে এই কর্মপরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন দেশের অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।