ব্রিটেন সংবাদ
যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, ভুল বিষয় বাছাইয়েই বেশি আফসোস
শিক্ষা ডেস্ক, ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১২ সেপ্টেম্বর :
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নিয়ে ব্রিটেনের নতুন স্নাতকদের বড় অংশ সন্তুষ্ট থাকলেও কোন বিষয়ে পড়েছেন, তা নিয়ে আফসোস বাড়ছে। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে স্নাতক হওয়া শিক্ষার্থীদের ১৫ মাস পর জরিপে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশের বেশি মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কিন্তু একই বিষয়ে আবার পড়তে চাইবেন বলেছেন মাত্র ৭০ শতাংশ।
অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের চেয়ে বিষয় নির্বাচনের ভুলই এখন বেশি ভাবাচ্ছে তরুণদের।
কম্পিউটার সায়েন্সে এই পরিবর্তন বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। চার বছর আগে এ বিষয়ের ৬৬ শতাংশ স্নাতক গ্র্যাজুয়েট-স্তরের চাকরিতে গেলেও সর্বশেষ হিসাবে তা নেমে এসেছে ৫৬ শতাংশে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে প্রবেশ-স্তরের অনেক কাজের ধরন বদলে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অ্যানিমেশন ও গেম ডিজাইনেও সন্তুষ্টি কমেছে। দুই-তৃতীয়াংশেরও কম স্নাতক আবার একই বিষয় বেছে নিতে চান। সাংবাদিকতা, মার্কেটিং ও জনসংযোগেও আফসোসের হার তুলনামূলক বেশি।
অর্থনীতিও ব্যতিক্রম নয়। ভালো বেতনের চাকরির জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হলেও এ বিষয়ে পড়া স্নাতকদের সন্তুষ্টি কমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একই বিষয় পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে চাকরির ফলাফলে বড় পার্থক্য থাকতে পারে।

যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু UCAS-এর কোর্সের নাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং বা সম্ভাব্য বেতন দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো।
প্রথমত, Graduate Outcomes দেখুন। একই বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা ১৫ মাস পর কোথায় চাকরি করছেন, কতজন উচ্চশিক্ষায় যাচ্ছেন এবং কতজন কর্মসংস্থানের বাইরে রয়েছেন—এসব তথ্য তুলনা করা উচিত।
দ্বিতীয়ত, কোর্সের সিলেবাস পড়ুন। শুধু ডিগ্রির নাম নয়; ইন্টার্নশিপ, প্লেসমেন্ট, বাস্তব প্রকল্প, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পেশাগত স্বীকৃতি আছে কি না দেখুন।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের Open Day-তে গিয়ে প্রশ্ন করুন। বর্তমান শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করুন—কোর্সটি বাস্তবে কেমন, শিক্ষক-সহায়তা কেমন এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কতটা সহযোগিতা করে।
চতুর্থত, Student Finance-এর হিসাব আগে করুন। টিউশন ফি ছাড়াও থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, বই, ল্যাপটপ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তিন-চার বছরে পরিবারের ওপর কতটা আর্থিক চাপ পড়বে, তা হিসাব করা দরকার।
পঞ্চমত, Degree Apprenticeship-ও বিবেচনা করুন। সবার জন্য প্রচলিত তিন বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ই একমাত্র পথ নয়। কিছু ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা ও ডিগ্রি একসঙ্গে অর্জনের সুযোগ পাওয়া যায়।
ষষ্ঠত, AI-এর প্রভাব বিবেচনা করুন। যে বিষয়ে পড়তে যাচ্ছেন, সেই পেশার প্রবেশ-স্তরের কাজ আগামী পাঁচ বছরে এআই কতটা বদলাতে পারে, তা আগে খুঁজে দেখা জরুরি। তবে শুধু ‘এআই চাকরি নিয়ে নেবে’ ভেবে কোনো বিষয় বাদ দেওয়াও ঠিক নয়; বরং এআই ব্যবহার করতে পারার দক্ষতা কীভাবে ওই পেশায় বাড়তি সুবিধা দেবে, সেটিও দেখতে হবে।
সপ্তমত, বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার আগেই কাজের অভিজ্ঞতা নিন। Work experience, volunteering, summer job বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমেয়াদি কাজ অনেক সময় একটি বিষয় আপনার জন্য উপযুক্ত কি না বুঝতে সাহায্য করে।
সবশেষে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনটি প্রশ্ন করা যেতে পারে—আমি কি বিষয়টি সত্যিই পড়তে চাই? এই ডিগ্রি দিয়ে বাস্তবে কী ধরনের চাকরি পাওয়া যায়? পাঁচ বছর পরও কি এই সিদ্ধান্তটি যুক্তিসঙ্গত থাকবে?
কারণ যুক্তরাজ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারে শুধু একটি ডিগ্রি যথেষ্ট নয়। সঠিক বিষয়, ভালো বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ দক্ষতা—এই চারটির সমন্বয়ই একজন শিক্ষার্থীকে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি থেকে সবচেয়ে বেশি রক্ষা করতে পারে।