তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

‘এখন থেকে আমি আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে মাঠে নামবো, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো’—ইশরাক

‘এখন থেকে আমি আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে মাঠে নামবো, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো’—ইশরাক

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভয়েস অব পিপল, ১৯ অক্টোবর: 

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, এখন থেকে আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে মাঠে নামবেন এবং মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

ইশরাক বলেন, ‘বিশেষ কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবে।’ তাঁর ভাষ্য, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে গিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দল চায়নি, নিজে থেকেই পদত্যাগ করছি।’

তবে কী কারণে তাঁকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

নেতাকর্মীদের স্লোগানে প্রেস ক্লাব

সংবাদ সম্মেলনের নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা আগে কালো গাড়িতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে পৌঁছান ইশরাক। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শত শত নেতাকর্মী। তাঁকে ঘিরে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের মুখে শোনা যায়, ‘ইশরাক ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ এবং ‘ইশরাক ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’ স্লোগান।

এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতে ফুলের তোড়াও দেখা যায়। প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। পরে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় তলার আবদুস সালাম হলে যান তিনি। সেখানেও নেতাকর্মীদের স্লোগান চলতে থাকে।

এর আগে সকালে নিজের বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় গাড়ি থেকে প্রতিমন্ত্রীর মনোগ্রাম খুলে ফেলেন ইশরাক। পরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান।

‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল’

পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলেন ইশরাক। তিনি লেখেন, এখন থেকে সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন।

পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার করা এবং দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পোস্টে ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল’ স্লোগানও দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পদত্যাগের খবরে উল্লাস প্রকাশকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা যেন বিদেশ থেকে দেশে ফিরে অংশ নেন।

অস্ত্র হাতে অভিযান ঘিরে বিতর্ক

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে অস্ত্র হাতে লোকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অভিযানে অংশ নেওয়া ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পদত্যাগ নিয়ে রাতভর আলোচনা

এর আগে রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ওই রাতে ইশরাকের পক্ষ থেকে পদত্যাগের খবরকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছিল।

সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান তিনি। এরপর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মন্ত্রিত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের পেছনে কী বিশেষ কারণ রয়েছে, তা স্পষ্ট না করলেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইশরাক। এখন তাঁর ঘোষিত কর্মসূচি কীভাবে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে।