অমর একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপ্রধান–প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, শহীদ মিনারে ঢল মানুষের

অমর একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপ্রধান–প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, শহীদ মিনারে ঢল মানুষের

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ২১ শে ফেব্রুয়ারি: অমর একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার যেন আবারও ফিরে পেল বায়ান্নর সেই শোক-গর্বের আবহ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপ্রধান মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ঘড়ির কাঁটা ১২টা স্পর্শ করতেই তিনি নীরবে দাঁড়িয়ে স্মরণ করেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ সব শহীদকে।

এর মাত্র তিন মিনিট পর, রাত ১২টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বপরিবারে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান। ১২টা ৭ মিনিটে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সেই মুহূর্তে মিনারজুড়ে ভেসে আসে অমর একুশের গান— “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…”—আর পুরো পরিবেশ আরও বেদনাময় হয়ে ওঠে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান। এরপর রাত ১২টা ১৬ মিনিটে জাতীয় সংসদের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে বিএনপির পক্ষ থেকে এবং জিয়াউর রহমান–খালেদা জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তখন উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক–বেসামরিক কর্মকর্তারা। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সবশেষে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের শহীদ ও গাজীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়