সিলেট-ছাতক এলাকায় ভূমিকম্প: আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতিই হোক সুরক্ষা

সিলেট-ছাতক এলাকায় ভূমিকম্প: আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতিই হোক সুরক্ষা

সিলেট প্রতিনিধি, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে সিলেট অঞ্চলে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী কম্পন টের পান মানুষজন। প্রাথমিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পপ্রবণ বাংলাদেশে সচেতনতা ও প্রস্তুতির বিকল্প নেই।

European-Mediterranean Seismological Centre (ইএমএসসি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। সংস্থাটি জানায়, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় এর উৎপত্তি। অন্যদিকে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ অ্যাপ My Earthquake Alerts–এর তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের উৎস ছিল সুনামগঞ্জের ছাতক, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৮১ কিলোমিটার দূরে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১০। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা বেশি হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে সিলেট নগরীসহ আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝারি মাত্রার এই ধরনের ভূমিকম্প সাধারণত বড় ক্ষতি না করলেও এগুলো ভবিষ্যৎ ঝুঁকির সতর্কসংকেত হতে পারে। ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে—এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই।

কী করবেন ভূমিকম্পের সময়?

  • ঘরের ভেতরে থাকলে মজবুত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন।

  • জানালা, কাচ ও ভারী আসবাব থেকে দূরে থাকুন।

  • লিফট ব্যবহার করবেন না।

  • বাইরে থাকলে খোলা জায়গায় অবস্থান করুন এবং ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ থেকে দূরে থাকুন।

প্রস্তুত থাকাই সুরক্ষা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের ক্ষতি কমাতে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা অত্যন্ত জরুরি। স্কুল, হাসপাতাল ও বহুতল ভবনে নিয়মিত মহড়া চালু করা দরকার। পরিবার পর্যায়ে জরুরি নম্বর, প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। অতীতে মাঝারি ও বড় মাত্রার ভূমিকম্পে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির নজির রয়েছে। তাই সাময়িক আতঙ্কে না ভুগে সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক প্রস্তুতি ও নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণের মাধ্যমেই ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানো না গেলেও সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত থাকলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যায়—এমনটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে সর্বশেষ এই কম্পন।