ব্রিটেন সংবাদ

এল নিনোর প্রভাবে ব্রিটেনে ঝড়ো শরৎ, শীতের শেষে তীব্র ঠান্ডার আশঙ্কা

এল নিনোর প্রভাবে ব্রিটেনে ঝড়ো শরৎ, শীতের শেষে তীব্র ঠান্ডার আশঙ্কা

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ২২ আগস্ট:

প্রশান্ত মহাসাগরে হাজার হাজার মাইল দূরে তৈরি হওয়া শক্তিশালী এল নিনো এবার ব্রিটেনের আবহাওয়াতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, আসন্ন শরৎ ও শীতের শুরুতে যুক্তরাজ্যে বৃষ্টি ও ঝড়ের প্রবণতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে শীতের শেষ ভাগে দেখা দিতে পারে তুলনামূলক ঠান্ডা ও শান্ত আবহাওয়া।

বিবিসির আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিকাশমান এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহের স্বাভাবিক ধারা বদলে যেতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি নয়, তবে বায়ুমণ্ডলের এই পরিবর্তনের ঢেউ আটলান্টিক পেরিয়ে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়াতেও পৌঁছাতে পারে।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস জানিয়েছে, এল নিনো সাধারণত ব্রিটেনে শরৎ ও শীতের শুরুর দিকে বেশি অস্থিতিশীল আবহাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও ঘন ঘন ঝড় দেখা দিতে পারে। তবে শীতের শেষভাগে পরিস্থিতি বদলে ঠান্ডা ও তুলনামূলক শান্ত আবহাওয়া দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনো মানেই নির্দিষ্টভাবে এমন আবহাওয়া হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে আটলান্টিকের পরিস্থিতি, জেট স্ট্রিমসহ আরও বহু জলবায়ুগত উপাদান। ফলে এল নিনোর প্রভাব কেবল সম্ভাবনা বাড়ায়, নিশ্চিত পূর্বাভাস দেয় না।

এবারের এল নিনোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি আধুনিক যুগের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে এবং নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটেনে সাম্প্রতিক খরা ও দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়ার পর অতিরিক্ত বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই সামনে ব্রিটিশ আবহাওয়ার চিত্র হতে পারে একেবারেই বৈপরীত্যপূর্ণ—ঝড়-বৃষ্টির শরৎ, অস্থির শীতের শুরু, আর শেষভাগে হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সম্ভাবনা।